Skip to main content

চট্টগ্রাম বুলেটিন

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আহ্বানে প্রথম সাড়া/ নুরুল মোস্তফা খোকনের উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে সন্দ্বীপের সরকারি হাসপাতাল

বছরের পর বছর চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের স্বাস্থ্যসেবার রুগ্ন দশা দেখে আসছে সেখানকার বাসিন্দারা। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে রাতের বেলায় নদী পথের ঝুঁকিতে শহরে আনারও সুযোগ নেই কাউকে। এতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকেই শেষ ভরসা ধরে নিতে হয় অনেককে। এভাবে সুচিকিৎসার অভাবে অকালে ঝরে গেছে দ্বীপের বহু প্রাণ। তবে সরকারি সেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সই গত এক দশকের বেশি নানা সমস্যায় জর্জরিত৷ ডাক্তার ও জনবল সংকটসহ নানামুখী সমস্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। এতে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেেন নিন্মআয়ের সাধারণ মানুষজন। তবে এবার সেই দু:খ ঘোছাচ্ছেন সন্দ্বীপের কৃতি সন্তান বিএনপি নেতা নুরুল মোস্তফা খোকন।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, নুরুল মোস্তফা খোকন নিজ উদ্যোগে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দৃশ্যপট বদলাতে চলেছেন৷ এই কাজে তিনি নিজস্ব বাজেট দিয়েছেন অন্তত ১২ লাখ টাকা। এই অর্থে নতুন রঙে সাজবে দ্বীপের অবহেলিত হাসপাতাল। সেইসাথে নিয়োগ দেওয়া হবে একজন সার্বক্ষণিক আয়া (পরিচ্ছন্ন কর্মী)। এছাড়াও শৌচাগার সংস্কার করা হবে, রোগীদের বসার স্থানের ব্যবস্থাও করা হবে এই উদ্যোগের আওতায়। ইতিমধ্যে তিনি একজন প্রতিনিধি পাঠিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির নানা সমস্যার তথ্য সংগ্রহ করার পাশাপাশি রোগীদের বসার জন্য একশো চেয়ার ক্রয় করেছেন। যা দ্রুত সেখানে পৌঁছে দেওয়া হবে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নে অবস্থিত সরকারি হাসপাতালটির শৌচাগারে নোংরা দুর্গন্ধের জন্য রোগী ও রোগীর স্বজনরা প্রবেশ করেন না৷ বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা রোগীদের বসার কোন সু-ব্যবস্থাও নেই হাসপাতালে। এছাড়াও হাসপাতালে সুপেয় পানির অভাব দীর্ঘ দিনের। দেওয়ালে শেওয়া জমে নষ্ট হয়ে বাইরের সৌন্দর্য। এছাড়াও নেই কোন এ্যাম্বুলেন্স, জেনারেটর থাকলেও নেই জ্বালানি তেলের বাজেট।

উদ্যোগের সূত্রপাত যেভাবে..
দলীয় সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দর্শক গ্যালারিতে ছিলেন সন্দ্বীপের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কাতার প্রবাসী নুরুল মোস্তফা খোকন ও উত্তর জেলা বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। এসময় সংসদ অধিবেশনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনকে একজন সংসদ সদস্য জানান, তাঁর সংসদীয় এলাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রুগ্ন দশা। রোগীরা সেবা পাচ্ছেন না, জরাজীর্ণ ভবন খসে খসে পড়ছে,চিকিৎসক ও নার্স সংকট, অধিকাংশ রোগ নির্ণয় হচ্ছে না বহুদিন ধরে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এসব সমস্যা সরকার তড়িৎ গতিতে সমাধান করা হবে কিনা তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চান। উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, পলাতক ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা লুটপাট করে দেশের তহবীলকে ধ্বংস করে ফেলেছে। এই মুহুর্তে হাসপাতালগুলো সংস্কার করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ সরকারের হাতে নেই। দেশের বিত্তবান ও সমাজসেবক ব্যক্তিরা যদি উন্নয়ন কাজের জন্য এগিয়ে আসেন তবে তারা স্মরণীয় হয়ে থাকবেন৷

এসময় দর্শক গ্যালারিতে থাকা বিশিষ্ট সমাজসেবক কাতার প্রবাসী নুরুল মোস্তফা খোকন তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেন সন্দ্বীপ উপজেলা সরকারি হাসপাতাল সংস্কারের। তিনি অঙ্গিকার করেন, ১২-১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ঢেলে সাজাবেন। বিশেষ করে শৌচাগার সংস্কার, রোগীদের বসার সু-ব্যবস্থা করবেন তিনি৷ আয়া ও পরিচ্ছন্নকর্মী সংকট তিনি নিয়মিত একজন আয়া নিজ খরচে নিয়োগ দেবেন৷

এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর এমন আহ্বানে সাড়া দেওয়া প্রথম ব্যক্তি হিসেবে নুরুল মোস্তফা খোকন সর্বসাধারণের প্রশংসা কুড়াচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তার এমন উদ্যোগ সারাদেশের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। একজন স্বাস্থ্যমন্ত্রী যখন আহ্বান জানান তখন তিনিই ব্যক্তি উদ্যোগে রুগ্ন হাসপাতাল সংস্কারে সর্বপ্রথম এগিয়ে আসেন। এটি তার মানবিক ব্যক্তিত্বের এক প্রতিচ্ছবি। নুরুল মোস্তফা খোকন উপজেলা ও উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য। দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, তিনি সমাজসেবাকে ব্রত হিসেবে নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে নানা সেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন সন্দ্বীপে।

স্থানীয়রা বলছেন, এই সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন হলে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এক নতুন রূপ ফিরে পাবে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই ভবনের ভেতরের এবং বাইরের পরিবেশ বদলে যাওয়ায় রোগীরা যেমন স্বস্তি পাবেন, তেমনি স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মপরিবেশও উন্নত হবে।
বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, নুরুল মোস্তফা খোকনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সন্দ্বীপের আপামর জনসাধারণ। রাজনীতির বাইরে গিয়ে এমন মানবিক ও সমাজসেবামূলক কাজ সন্দ্বীপের স্বাস্থ্যখাতে এক বিরল নজির হয়ে থাকবে। সেইসাথে সারাদেশের জন্য তিনি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন৷

এ বিষয়ে নুরুল মোস্তফা খোকন জানান, সন্দ্বীপের মানুষের সেবা করাই তার মূল লক্ষ্য। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবেশ সুন্দর হলে সাধারণ মানুষ উন্নত পরিবেশে সেবা নিতে পারবেন, আর সেই মানসিক প্রশান্তি থেকেই তিনি এই ক্ষুদ্র প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মানস বিশ্বাস বলেন, আমরা তার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। এতে সেবা যেমন গতিশীল হবে তেমনি নতুন রূপে ফিরবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। আমাদের জনবল সংকট, জেনারেটরের জ্বালানী বাজেট নেই। এতে সেবা প্রদানে নানামুখী সমস্যা পড়তে হচ্ছে।

Tags :

সর্বশেষ