অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুই ছাত্র উপদেষ্টা যদি পদত্যাগ করেন তাহলে বৈধতাই হারাবে সরকার। তখন সরকার আর গণঅভ্যুত্থানের সরকার থাকবে না। এ সরকারের দরদ সবাই নিবে, কিন্তু দায়টা শুধু এনসিপি’র।
গতকাল এক ফেসবুক পোস্টে সব কথা জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর সম্পাদক) সালেহ উদ্দিন সিফাত। পাঠকের উদ্দেশ্য তার ফেসবুক পোস্টটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো।
আসিফ-মাহফুজ অভ্যুত্থানের সংগঠক ও প্রতিনিধি হিসাবে উপদেষ্টা হয়েছেন। বস্তুতঃ এই সরকারের লেজিটিমেসিও তারা তথা ছাত্ররা। শুনতে বাজে লাগলেও, তারা ছাড়া এই সরকারের অন্য উপদেষ্টাদের অভ্যুত্থানের রাজপথ ও সামগ্রিক সংগ্রামের (সংহতির জায়গা থেকে কেউ কেউ ছিলেন) সাথে সরাসরি কোনো সম্পর্ক নাই। জনগণ আসিফ মাহমুদের ডাকে জুলাইয়ের রাজপথে নেমেছে এবং মাহফুজ আলমের সেট করা ভাষায় “বাংলা ব্লকেড” করেছে। বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন ভাইয়ের কাছে আসিফ মাহমুদ এবং মাহফুজ আলম “এনসিপি মার্কা” উপদেষ্টা এবং আজকে অবৈধ নির্বাচনের বৈধ মেয়র জনাব ইশরাকও একই দাবি করে তাদের পদত্যাগ চেয়েছেন । যদি তারা “এনসিপি মার্কা” উপদেষ্টা হয়ে থাকেন, তাহলে কি উনারা স্বীকার করে নিলেন যে অভ্যুত্থান এনসিপি’র নেতৃত্বে হয়েছে? একটা কথা বেশ পরিষ্কার- ছাত্র উপদেষ্টারা পদত্যাগ করলে অভ্যুত্থানের সরকার হিসাবে এই সরকারের কোনো বৈধতা-ই থাকে না।
অভ্যুত্থানের সমন্বয়করা বারবার বলেছেন, বিএনপি ও জামায়াতসহ রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বৈঠক, আলোচনা ও সমন্বয় করে উপদেষ্টা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। ফলে এই সরকারের দরদ কে কোথা থেকে নিচ্ছে তা কারো অজানা নয়। তৃণমূলে ইউএনও অফিসে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে। গরুর হাট নিয়ে এখন হরহামেশা মারামারি চলছে। কারা করছে এটাও সবাই জানে। সচিবালয়ে এমনকি গণঅধিকারের লোকজনও পাবেন। মোটাদাগে, এই সরকারের দরদ সবাই নেবে। কিন্তু দায়টা কেবল এনসিপি’র। কারণ একটাই! সরকারে দুইজন “ছাত্র” উপদেষ্টা আছেন।