চট্টগ্রাম বুলেটিন

বোনের হাতে তৈরি নাস্তার প্রশংসা, অত:পর

আয়শা আক্তার:

নবম শ্রেণি পড়ুয়া ছোট বোন বড় ভাইকে প্রতিদিনই ভালোবেসে নানারকম হাতের নাস্তা খাওয়াতেন৷ ভাই উদর পুরে এসব খেতেন৷ একদিন বলল বোন, তোর হাতের নাস্তা অসাধারণ খেতে৷ তুই চাইলে আমাদের বাড়ির সামনে নাস্তার দোকান দিতে পারিস৷ বোন বলল, যা আমাকে মশকরা করার আর কিছু বুঝি পেলি না ভাইয়া৷ ভাইও বোনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলল দেখবি তোর হাতের প্রোডাক্ট কতো বেশি বিক্রি হবে?

যেই কথা সেই কাজ। বোন স্বযত্নে সিঙ্গারা, সমুচা, পুরি, পানি পুরি, ভেলপুরিসহ নানা ধরণের নাস্তা বানিয়ে অনেকটা হেয়ালিপনায় হাতে দিলো৷ ভাই সেই নাস্তা হাতে করে বের হলো বাড়ির সামনে। মুহুর্তেই সব নাস্তা বিক্রি হয়ে যায়৷

বাড়ি ফিরে বোনকে বললে বোন বিশ্বাসও করছিলো না। নিজের কাঁচা হাতে বানানো নাস্তা গুলো দিয়ে কচকচে নোট আসলো? বোন টর বিশ্বাস করতে কষ্টই হচ্ছিল। এরপর থেকে প্রতিদিনই বোন নাস্তা বানিয়ে ভাইকে দিতে থাকে৷ এখন তাদের একটি দোকান রয়েছে (ফুডকাড)। যেখানে প্রতিদিনের আয় কমপক্ষে ২ হাজার টাকা৷ বোনের কষ্টকে যত্নে যত্নে মানুষের কাছে পরিবেশন করছেন ভাই। চলছে সংসারও৷ হাসি ফুটেছে পুরো পরিবারের মুখে। নিজেদের অজান্তেই এই হাসি, কখনও না থামুক সেই হাসি। বড় হোক তাদের ব্যবসা, আরও বড় হোক।

এমন চিত্র দেখতে আসতে হবে নগরের আকবরশাহ থানাধীন লেকসিটি আবাসিক এলাকায়৷

Tags :

সর্বশেষ