চট্টগ্রাম বুলেটিন

রাসূল (সা:) ছিলেন মানবতার আদর্শ শিক্ষক ও পর্যবেক্ষক: মিজানুর রহমান আজহারী

বাংলাদেশের জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তা ও লেখক ড. মিজানুর রহমান আজহারী বলেছেন, হযরত মুহাম্মদ (সা:) ছিলেন মানবতার আদর্শ শিক্ষক ও পর্যবেক্ষক। তিনি ছিলেন আমাদের পথপ্রদর্শক। তিনি তার পরবর্তী তিন প্রজন্মকে শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম বানিয়েছেন। আমাদের বর্তমান প্রজন্মও যদি তার শিক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ করে তারাও শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম হয়ে ওঠবেন। তাই পৃথিবীকে জয়লাভ করতে হলে হযরত মুহাম্মদ সা: এর শিক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ’’হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর শিক্ষা পদ্ধতি’’ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, আমাদের রাসূল সা: সাহাবাদেরকে ও শিশুদেরকে পিতৃস্নেহে পড়াতেন। তিনি বাবা-মা যেমন সন্তানকে আদর-যত্ন করে পড়ান তেমনি করে শিক্ষা দিতেন। সকল বিষয়ে তিনি জ্ঞান রাখতেন। সহজ ও সাবলীলভাবে উপস্থাপন করতেন। রাসূল বলেছেন, তোমরা আমাকে জটিলকারী হিসেবে বা কঠোরতাকারী হিসেবে ধরিও না। আল্লাহ আমাকে সেরকম করে পাঠাননি। বরং তিনি আমাকে সহজ শিক্ষক হিসেবে পাঠিয়েছেন। এজন্য রাসূল সা: এর শিক্ষা পেলে মানুষ আশাবাদী হয়ে ওঠতেন।

আজহারী আরও বলেন, হযরত মুহাম্মদ সা: বলেছেন, তোমরা দ্বীনকে সহজ করো, কঠিন করো না এবং মানুষকে দ্বীন থেকে বাগিয়ে দিও না। এমনভাবে উপস্থাপন করো যেন সে জীবনের সাথে খাপ খাওয়াতে পারে। তিনি মানুষের সাথে ধীরে আস্তে কথা বলতেন। তিনি এমনভাবে কথা বলতেন যে তিনি কথার সময় কয়টা শব্দ বলেছেন সেটাও গুণে ফেলা যেতো। সবাই তার মুখস্থ করে নিতে পারতো। তার মধ্যে আদর্শ শিক্ষকের সব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান ছিল।

রাসূল সা: এর শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আজহারী বলেন, তিনি ওয়ান অন ওয়ান মিটিং করতেন৷ আবার একাধিক বা অনেককে একসাথে নিয়ে আলোচনা করতেন। তার শিক্ষা পদ্ধতি ছিলো দুই ধরণের। এক হলো প্রাইভেট, দুই পাবলিক। তিনি যখন উট, খচ্চর, গাধার পিঠে কাউকে নিতেন তখন প্রাইভেট আলোচনা করতেন আর যখন সমাবেশ বা খুতবা দিতেন তখন পাবলিক।

 

তিনি বেশিরভাগে প্রশ্নের মাধ্যমে শিখন পদ্ধতি ব্যবহার করতেন। তিনি সাহাবিদের প্রশ্ন করতেন এবং উত্তর পেলে তাদেরকে উৎসাহ দিতেন৷ আবার সাবাহাদের এসাইনমেন্ট দিতেন। তিনি যেকোন জিনিসকে গুরুত্ব দিতে ৩ বার বলতেন। বিদায় হজের ভাষণে তিনি ৩ বার সাক্ষ্য নিয়েছেন জনতার কাছ থেকে। তিনি গুরুত্ব বুঝাতে কসম করতেন এবং হাত, পা, আঙ্গুল দিয়ে অঙ্গভঙ্গি করে বুঝাতেন।

কার কি ঘাটতি তিনি সেটি বুঝতেন। এজন্য একই প্রশ্নের উত্তর ভিন্ন ভিন্নভাবে দিতেন। প্রশ্নের উপর প্রশ্ন ছুড়ে দিতেন। উত্তর জানতে আগ্রহী করে তুলতেন। তিনি ভুল শোধরাতেন চমৎকারভাবে। তিনি ছিলেন গুড অবজারর্বার। তিনি জিবরাঈল আ: কে কোরআন শোনাতেন এবং তার কাছ থেকে কোরআন তেলওয়াত শুনতেন। বিভিন্ন ভাষা শেখতে উৎসাহ দিতেন। তিনি ইহুদিদের চিঠি লেখার জন্য এক সাহাবাকে হিব্রু ভাষা শেখার নির্দেশ দেন।

এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী। অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান আ ন ম শামসুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহজাহান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।

Tags :

সর্বশেষ