ডেস্ক রিপোর্ট:
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হুমকি ও শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সন্দ্বীপ পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের মোমেনা সেকেন্দার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র এলাকায় একটি চিহ্নিত সন্ত্রাসী চক্রের অপতৎপরতায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সত্যতা পাওয়া গেছে।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, গতরাতে (মঙ্গলবার) সন্দ্বীপ পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও সাবেক সরকারি কর্মচারী ভবরঞ্জন মজুমদারের দোকানে ঢুকে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে চিহ্নিত সন্ত্রাসী মোঃ বাবলু ওরফে ছেনি বাবলু। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বাবলু ভিক্টিমকে লক্ষ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রকাশ্যে ৮-৯টি চড়-থাপ্পড় মেরে গুরুতর লাঞ্ছিত করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোটকেন্দ্রে গেলে তার পরিণাম ভালো হবে না বলে হুমকি দিয়ে যায় ছেনি বাবলু। একইসঙ্গে আগামী ১২ তারিখ বেলা ১১টার মধ্যে মোমেনা সেকেন্দার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রটি দখল করে নেওয়া হবে বলে তারা দম্ভোক্তি করে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত অন্য দুই ব্যক্তি হলেন ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারি মাহবুবুল আলম শিমুল এবং স্থানীয় বাসিন্দা কেফায়েত উল্ল্যাহ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত আগস্ট মাসের পরবর্তী সময় থেকে অভিযুক্ত বাবলু, শিমুল ও কেফায়েত উল্ল্যাহ এলাকায় এক প্রকার ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তাদের অব্যাহত হুমকির মুখে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই ভীতিকর পরিস্থিতির কারণে সাধারণ ভোটারদের বড় একটি অংশ ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করছেন।
এই বিষয়ে সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জায়েদ নূরের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, দুর্ধর্ষ বাবলুকে ধরার জন্য একাধিক অভিযান পরিচালনা হলেও তাকে ধরা যায়নি। শীঘ্রই ছেনি বাবলু ও সাঙ্গপাঙ্গদের গ্রেফতারে আবারও অভিযান চলবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয়রা জানান, এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা না নিলে ভোটের দিন বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে।