Skip to main content

চট্টগ্রাম বুলেটিন

সিডিএ’ অভিযান: চট্টগ্রামের শীর্ষ হাসপাতাল ও নামীদামি স্কুলেই পার্কিং জট, ১ মাসের আল্টিমেটাম

নগরের পার্কভিউ হাসপাতাল, ইবনে সিনা, ডেল্টা হসপিটাল, ডক্টরস ল্যাব এবং নামীদামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চিটাগং গ্রামার স্কুল (ন্যাশনাল ও ব্রিটিশ কারিকুলাম) ও চিটাগং আইডিয়াল স্কুলে অভিযান চালিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। অভিযানে এসব প্রতিষ্ঠানের কোথাও পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা পাওয়া যায়নি। ধরা পড়েছে ভবনের নানা ত্রুটিও। আবাসিক ভবনে অনুমোদন নিয়ে সেখানে স্কুল ও হাসপাতাল পরিচালনা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন স্থানে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযান পরিচালনা করেন সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। এসময় তার সাথে প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, প্রকল্প পরিচালক আহমেদ মঈনুদ্দিনসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে নগরীর পাঁচলাইশ এলাকার ডেল্টা হসপিটাল ও ডক্টরস ল্যাবে পার্কিং সংক্রান্ত ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়ে। কোন নকশা দেখাতে পারেনি ইবনে সিনা হাসপাতাল। সবচেয়ে বেহাল দশা দেখা গেছে অভিজাত এলাকার নামীদামি স্কুলগুলোতে। ধনী ও উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের বিদ্যাপীঠ চিটাগং গ্রামার স্কুলে ১২০০ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করলেও (যদিও বাস্তবে ৩৫০০ শিক্ষার্থী পড়ার অভিযোগ রয়েছে এবং প্রিন্সিপাল ৮০০ জনের কথা দাবি করেন) সেখানে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা মাত্র দুটি গাড়ি রাখার! অথচ এই স্কুলে ভর্তির অন্যতম শর্তই থাকে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব গাড়ি থাকা। প্রতিদিন এসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব গাড়ি ও অভিভাবকদের গাড়ির সড়কে যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারণে আশেপাশের সড়কে তীব্র যানজট লেগে থাকে। একই ধরনের অনিয়ম ও ভয়াবহ যানজটের দৃশ্য দেখা গেছে জামালখানের চিটাগং আইডিয়াল স্কুলেও।

অভিযান শেষে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “অনিয়ম সংশোধন ও নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিতে আগামী এক মাসের সময় বেঁধে দেওয়া হলো। এর মধ্যে স্থানীয় ক্যাম্পাস ও ভবনে নির্ধারিত পার্কিং ফিরিয়ে আনতে হবে। তবে স্থায়ী পার্কিং নিশ্চিত করে আমরা নতুন ভবনগুলোর অনুমোদন দেব। কোন ছঅড়া চলবে না।  পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করলে প্রতিষ্ঠানগুলো সিলগালা করে দেওয়া হবে।” তিনি বলেন, নগরকে বাসযোগ্য করতে যানজটমুক্ত শহর উপহার দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। চসিকের মেয়র, সিএমপি কমিশনার, ওয়াসার এমডি আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে নগরকে যানজটমুক্ত করব। সেজন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনসহ আমরা সভা করব। কিভাবে আইন মানাতে হবে এবং পার্কিং নিশ্চিত করা যায় সেটি এখন আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

এর আগে সকাল থেকে এই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান বিভিন্ন অনিয়ম খুঁজে পান। এমন পরিস্থিতি দেখে তিনি বলেন, একটি শহর এভাবে চলতে পারে না। বিগত ফ্যাসিবাদী আমল থেকে কোন আইনের তোয়াক্কা করেনি প্রতিষ্ঠানগুলো। সর্বত্র দুর্নীতি চেপে বসায় কোন আইন মানানো যায়নি। এটি তারই ফসল।

Tags :

সর্বশেষ