Skip to main content

চট্টগ্রাম বুলেটিন

জাহাজ থেকে পড়ে মেরুদন্ড ভেঙে যাওয়া আলাউদ্দিনের মৃত্যু

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিলে ৯ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর আলোচনার তুঙ্গে থাকার মাঝেই চাপা পড়ে যায় আল বারাকা শিপইয়ার্ডের আরও এক শ্রমিকের ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঘটনা। জাহাজ কাটার কাজ করার সময় প্রায় ১৫ ফুট ওপর থেকে পড়ে গিয়ে মারাত্মক আহত হওয়া কাটারম্যান মো. আলাউদ্দিনের (৫২) অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।

শিপইয়ার্ডে কাজ করার সময় উপর থেকে নিচে আছড়ে পড়ে তার মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যায়। এর ফলে তার হাত ও পা পুরোপুরি অবশ হয়ে পড়ে এবং ফুসফুসে মারাত্মক আঘাত পাওয়ার কারণে তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। গত পাঁচ দিন ধরে নগরীর বেসরকারি সিএসটিসি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসে রাখা হলেও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি গত শনিবার সকালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

এর আগে গত রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে সীতাকুণ্ডের চৌধুরীঘাটায় আল বারাকা শিপইয়ার্ডে কাজ করার সময় এই দুর্ঘটনার শিকার হন আলাউদ্দিন।

অভিযোগ উঠেছে, দুর্ঘটনার পর বিষয়টিকে আড়াল করতে ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ তাকে প্রথমে চমেক হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে বেসরকারি সিএসটিসি হাসপাতালে স্থানান্তর করে। ভর্তির সময় থেকেই তার রক্তচাপ ও অক্সিজেনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কম ছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ফুসফুসে রক্ত জমে যাওয়া এবং দুই হাতে একাধিক ফ্র্যাকচার ধরা পড়ে।

দুর্ঘটনার পর মালিকপক্ষের চাপে নিহতের স্বজনেরা প্রথমে গণমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক শ্রমিক জানান, সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বললে চিকিৎসার খরচ বন্ধ করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছিল পরিবারটিকে।

যদিও ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, অনিরাপদ পরিবেশের কারণে নয়, বরং শারীরিক অসুস্থতার কারণে আলাউদ্দিন সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়েছিলেন। তবে এই মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আবারও জাহাজ ভাঙা শিল্পের সার্বিক নিরাপত্তা ও শ্রমিকদের জীবন ঝুঁকির বিষয়টি নগ্নভাবে সামনে এলো।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) প্রতিনিধিরা জানান, ইয়ার্ডগুলোকে কাগজে-কলমে ‘গ্রিন’ বা পরিবেশবান্ধব দাবি করা হলেও বাস্তবে শ্রমিকদের ন্যূনতম নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হচ্ছে না, যার মাশুল প্রতিনিয়ত জীবন দিয়ে দিতে হচ্ছে সাধারণ শ্রমিকদের।

Tags :

সর্বশেষ