চট্টগ্রাম বুলেটিন

আওয়ামী সাংবাদিকরাই হবে আগামী জাতীয় নির্বাচনের বড় বাঁধা

আওয়ামী সাংবাদিকদের অপসাংবাদিকতা ও ভারত প্রীতিই আগামী সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে পারে। এমনকি গুজব কিংবা ভুল তথ্য ছড়িয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করতে পারে।

সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলার মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কামিটির বৈঠকে এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবের আহবায়ক ও আমার দেশ পত্রিকার সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি জহিরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদের ধারাবাহিকতায় সীতাকুণ্ডে সাংবাদিকতার আড়ালে অপসাংবাদিকতা জেঁকে বসেছে। পলাতক স্বৈরাচারী নেতাদের গোপন অর্থায়নে আওয়ামী লীগ ও ইসকনের এজেন্ডা বাস্তবায়নসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এখনও দৃশ্যমান। এ ধরনের অপসাংবাদিকতা রুখতে প্রশাসনকে সজাগ ও সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। অন্যথায়, তারা সীতাকুণ্ডে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ছাড়বে। তিনি আরও বলেন, গত সবকটি ডামি, রাতের ভোটে এই হলুদ সাংবাদিকরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ, সুন্দর উৎসবমুখর ট্যাগ দিয়ে আওয়ামী লীগের বিতর্কিত সব নির্বাচনকে বৈধতা দেয়। তারাই এখনও সাংবাদিকতায় রয়ে গেছে নানা ছ্দ্মাবরণে৷ এটি আমাদের জন্য অশনিসংকেত৷ তাই প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থাকে তৎপর হতে হবে এ ব্যাপারে৷ সেইসাথে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী ভাবাদর্শের সাংবাদিকদের চোখ কান খোলা রাখতে হবে যেন এসব পলাতক ফ্যাসিস্টের দোসররা কোন গুজব ছড়াতে ও এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে না পারে৷

বৈঠকে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনছুর বলেন, ৫ আগস্টের আগে এক শ্রেণীর বিপথগামী সাংবাদিক সন্ধ্যায় থানায় গিয়ে আড্ডা ও তদবির করতেন। থানায় বসেই তারা সিদ্ধান্ত নিতেন কোন বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হবে। ফলে পরদিন সকালেই একই ধরনের সংবাদ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ পেত। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর সিদ্ধান্তের কারণে বর্তমানে থানায় ও উপজেলা পরিষদে আগের মতো আড্ডা, তদবির বন্ধ হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, উপজেলার সার্বিক নিরাপত্তা ও নাগরিক শান্তি বজায় রাখতে প্রশাসন কঠোরভাবে কাজ করছে। মাদক, সন্ত্রাস, চুরি ও ডাকাতিসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও সুসংহত হবে।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলতাপ হোসেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কল্লোল বড়ুয়া, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আলমগীর বাদশা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা তাজাম্মল হোসেন, মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোতাছিম বিল্লাহ, জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রণবেশ মহাজন, কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ, সমাজসেবা কর্মকর্তা লুৎফুন নেছা বেগমসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা।

Tags :

সর্বশেষ