Skip to main content

চট্টগ্রাম বুলেটিন

ইপসার উদ্যোগ: দূর্যোগের আগেই ১০০ পরিবার পেলো নগদ ৬ হাজার টাকা

চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলে বর্ষা মৌসুমের দুর্যোগ শুরুর আগেই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ১০০টি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের মাঝে ৬ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা বিতরণ করেছে সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)। ইউরোপিয়ান সিভিল প্রটেকশন অ্যান্ড হিউম্যানিটারিয়ান এইড অপারেশনস-এর অর্থায়নে এবং রাইমসের সামগ্রিক কারিগরি সহায়তা ও সেভ দ্য চিলড্রেনের কর্মসূচিগত সহযোগিতায় বাস্তবায়িত ‘সুরক্ষা’ প্রকল্পের আওতায় এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৭, ৮, ৯ এবং ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে এই সহায়তার জন্য নির্বাচিত করা হয়। এই এলাকাগুলো মূলত খাড়া পাহাড়ি ভূখণ্ড হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে ভূমিধস এবং আকস্মিক বন্যার চরম ঝুঁকিতে থাকে। একইভাবে, বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়ন এবং সাধনপুর ইউনিয়ন এলাকায় মাঠ পর্যায়ের নিবিড় স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি দুর্যোগ-ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়। উভয় এলাকার যোগ্য সুবিধাভোগী পরিবারগুলোকে সরাসরি নগদ অর্থ অথবা মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশের মাধ্যমে পরিবার প্রতি ৬ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়, যেন দুর্যোগ আঘাত হানার আগেই তারা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।
‘সুরক্ষা’ মডেলের মূল বৈশিষ্ট্য: আগাম মানবিক পদক্ষেপ
এই মডেলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ‘আগাম পদক্ষেপ’ কৌশল। প্রচলিত ব্যবস্থার মতো দুর্যোগ ঘটে যাওয়ার পর ত্রাণের জন্য অপেক্ষা না করে, আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে দুর্যোগের আগেই এখানে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো হয়। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক দুর্যোগের পূর্বাভাস পাওয়ার পর, প্রকল্পের পূর্ব-অনুমোদিত তালিকা অনুযায়ী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে (অর্থাৎ বন্যা বা ভূমিধস শুরু হওয়ার আগেই) সুবিধাভোগীদের কাছে টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে এই প্রঅ্যাক্টিভ বা আগাম কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ইপসার প্রতিষ্ঠাতা প্রধান নির্বাহী ড. আরিফুর রহমান বলেন,”সময়োচিত এই নগদ অর্থ সহায়তা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে। এটি চট্টগ্রামের ভৌগোলিকভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা এলাকার মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এবং জীবিকা সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সেভ দ্য চিলড্রেন এর ম্যানেজার (রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন) ফাতেমা মেহেরুন্নিসা বলেন,
“২০২৬ সালের জুলাইয়ের এই ভূমিধস পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে আগাম পদক্ষেপ কীভাবে জীবন বাঁচাতে পারে। আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ হলো প্রতিটি প্রারম্ভিক সতর্ক বার্তার পাশাপাশি এমন নিরাপদ, প্রবেশযোগ্য এবং নির্ভরযোগ্য আশ্রয়কেন্দ্র নিশ্চিত করা, যেখানে বিপন্ন মানুষ মর্যাদার সাথে আশ্রয় নিতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই মানবিক উদ্যোগে সরকারের স্থানীয় ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। ওয়ার্ড সচিব, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, চট্টগ্রামের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা, সেভ দ্য চিলড্রেনের হিউম্যানিটারিয়ান, ডিআরআর অ্যান্ড ক্লাইমেট বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার, ইপসার সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক পরিচালক এবং সুরক্ষা প্রকল্পের মিল ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই সমন্বিত কার্যক্রমে অংশ নেন। সরকারি কাঠামোর মধ্যে থেকে এই কার্যক্রম পরিচালনা করায় এটি যেমন আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে, তেমনি স্থানীয়ভাবে টেকসই মালিকানাও নিশ্চিত হয়েছে৷

Tags :

সর্বশেষ