Skip to main content

চট্টগ্রাম বুলেটিন

কাট্টলীতে ড্রেন ভেঙে ফেলেছিলেন সাবেক এমপি দিদার, এলাকাবাসীর সীমাহীন দুর্ভোগ

নগরীর উত্তর কাট্টলী এলাকায় আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি দিদারুল আলম একটি গুরুত্বপূর্ণ ড্রেন ভেঙে ফেলার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই চরম জলাবদ্ধতা ও সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমের উদ্যোগে নির্মিত এই ড্রেনটি সাবেক সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের নির্দেশে তার অনুসারীরা তাদের নিজস্ব সম্পত্তি দাবি করে ভেঙে ফেলেছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী শাহেদ আকবর তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক) হ্যান্ডেলে এক পোস্টে এই অভিযোগ তুলে ধরেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

ঘটনার বিবরণ ও স্থানীয়দের অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর কাট্টলীর বরদা বিশ্বাস সড়কের ছোট কালী মন্দির থেকে নীলম্বর তালুকদার রোড পর্যন্ত এলাকায় (ভাস্কর ডাক্তারের বাড়ীর সামনে এবং বসির মোহাম্মদ বাড়ীর পেছনে) জনসাধারণের সুবিধার্থে ও পানি নিষ্কাশনের জন্য পূর্বে একটি ড্রেন ছিল। সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমের মেয়াদে জনস্বার্থে ড্রেনটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পরবর্তীতে পতিত আওয়ামী লীগের ডামি এমপি দিদারের অনুসারীরা তার পরিবারের নির্দেশে ওই জায়গাটিকে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি দাবি করে ড্রেনটি ভেঙে দেয়। ড্রেনটি ভেঙে ফেলার পর থেকে সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকায় পানি জমে কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ওই এলাকার সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

জায়গাটি সরকারি ‘খাস’ সম্পত্তি
এলাকাবাসীর দাবি, যে জায়গাটির ওপর ড্রেনটি নির্মিত হয়েছিল, সেটি কোনো ব্যক্তির মালিকানাধীন জায়গা নয়। অর্থাৎ এমপি দিদারের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এটি মূলত সরকারি খাস (অর্পিত/এনিমি) সম্পত্তি। জনস্বার্থে তৈরি এই সরকারি স্থাপনাটি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ভেঙে ফেলায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

দ্রুত পদক্ষেপের দাবি
এই জনদুর্ভোগ নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং চসিক-এর প্রধান প্রকৌশলীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে যুবদল নেতা শাহেদ আকবর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট বিনীত অনুরোধ জানিয়ে বলেন, জনস্বার্থে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একই সাথে, বর্ষার এই মরসুমে উত্তর কাট্টলীবাসীকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে ড্রেনটি দ্রুত পুনর্নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান তিনি।

Tags :

সর্বশেষ