Skip to main content

চট্টগ্রাম বুলেটিন

কৃষ্ণ খালের বিষাক্ত বর্জ্যে ধ্বংসের মুখে হালদা, ছড়িয়ে পড়ছে চর্মরোগ

চট্টগ্রামের পশ্চিম কুয়াইশ এলাকার বেল্লা বাপের বাড়ি থেকে শুরু হয়ে বুড়িরচর হয়ে হালদা নদী পর্যন্ত বিস্তৃত কৃষ্ণ খাল।  এই কৃষ্ণ খালে বিষাক্ত কালো বর্জ্যের স্রোত কোনোভাবেই থামছে না গত সাত বছর ধরে। প্রতিদিন অনিয়ন্ত্রিতভাবে নেমে আসা এই বিষাক্ত পানির কারণে চরম হুমকির মুখে পড়েছে পুরো এলাকার পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য এবং দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তোলা ছবিতে কৃষ্ণ খালের ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খালে জোয়ারের সময় কিছুটা পরিষ্কার পানি প্রবেশ করলেও ভাটা শুরু হলেই পুরো খাল আবার কুচকুচে কালো রঙ ধারণ করে। বর্জ্যের তীব্রতায় কৃষ্ণ খালের জীববৈচিত্র্য ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। খালে এখন মাছের কোনো অস্তিত্ব নেই। এমনকি প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকা সাপ, কেঁচো বা পানির অন্যান্য ছোট কিট-পতঙ্গও পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে।

দূষিত এই পানি খাল থেকে আশপাশের খেতখামারে ছড়িয়ে পড়ায় কৃষিজমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন পুকুরে কালো পানি প্রবেশ করায় সাধারণ ব্যবহার্য পানিও মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। বাতাসে ছড়িয়ে পড়া তীব্র দুর্গন্ধ এলাকায় এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম জানান, এই বিষাক্ত পানির সংস্পর্শে এসে অনেকেই চর্মরোগসহ বিভিন্ন চর্মজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছেন। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, কৃষ্ণ খালের এই বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি গিয়ে মিশছে হালদা নদীতে, যা নদীর বাস্তুসংস্থান ও প্রজননক্ষম মাছের ওপর কী ধরণের ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদরা। তাছাড়াও গত সাত বছর ধরে এই পরিস্থিতি স্থানীয়দের জীবনকে বিষিয়ে তুলেছেন।

এলাকাবাসী অবিলম্বে কৃষ্ণ খালে বিষাক্ত বর্জ্য ফেলা বন্ধে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এবং পরিবেশ ও দেশের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

Tags :

সর্বশেষ