চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটের ডিসি পার্কে আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী ফুল উৎসব। যা চলবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এবারের ফুল উৎসবে ১৪০ প্রজাতির লক্ষাধিক দেশী-বিদেশী ফুলের সমাহার ঘটানো হয়েছে ডিসি পার্কে। এছাড়াও দিঘীর নিলাভ স্বচ্ছ জলরাশি, সবুজ গাছপালা, জীপ লাইনিং, প্যাডেল বোট, কিটস জোন, ফ্লাওয়ার টী, পানির ফোয়ারা, সারি সারি খেঁজুর গাছ থেকে রস পড়ার দৃশ্য, পাখিদের কলরব, নৌকা ভ্রমণ, আঞ্চলিক গানের আসর উপভোগ করতে পারবেন দর্শনার্থীরা। সেইসাথে এই পার্কে আসন্ন গণভোটের প্রচারণা চালাবে জেলা প্রশাসন। এজন্য আলাদা বুথ বসানো হয়েছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, চতুর্থবারের মতো শুক্রবার সকালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এহছানুল হক সকাল দশটায় ফুল উৎসবের উদ্বোধন করেছেন। এবারের উৎসবে ১৫টি দেশ থেকে শতাধিক সাংস্কৃতিক কর্মীরা জেলা প্রশাসনের আমন্ত্রণে আসবেন ডিসি পার্কে। এছাড়াও চট্টগ্রামের শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মীরা এখানে আসবেন। চাটগাঁর আঞ্চলিক কৃষ্টি, সংস্কৃতি তারা তুলে ধরবে। এতে বাংলাদেশের সাথে অন্যান্য দেশের সংস্কৃতির একটি মেলবন্ধন তৈরি হবে। পর্যায়ক্রমে তাদের গান, নৃত্য আসরগুলো উপভোগ করতে পারবেন দর্শনার্থীরা।

এসময় সিনিয়র সচিব এহছানুল হক বলেন, আমি এমন আয়োজন দেখে মুগ্ধ। পর্যটন খাতের বিকাশে এ ধরণের উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে। এখানে চট্টগ্রামসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ফুটে ওঠবে। হাজার হাজার মানুষ আসবে, তারা ফুলের ঘ্রাণ নিয়ে ফুলের মতো সুভাস ছড়াবে এমনটাই আমার আশা। তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচনের দিকে চেয়ে আছে পুরো জাতি। এই নির্বাচনের সাথে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গণভোট। সেই গণভোটের প্রচারণা করবে জেলা প্রশাসন। আমি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।
ডিসি জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ব্যস্ততম বন্দর নগরীরর মানুষ যেন শীতের দিনে অবসর সময়গুলো সবুজের সাথে, মনোমুগ্ধকর পরিবেশে কাটাতে পারে সেই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়াও গত তিন মাস আগে থেকে ফুল উৎসবের জন্য প্রস্তত করা হয় ডিসি পার্ককে। পার্কের দুটি বিশাল দিঘীকে পরিস্কার করা হয়েছে ইতিমধ্যে। ভ্রমণের জন্য সেখানে কয়েক ধরণের প্যাডেল চালিত নৌকা রয়েছে। চারপাশের গাছপালাকে রংধনুর আকৃতিতে সাজানো, পাখির খোপ, শিশুদের কিডস জোন, লাভ ও চায়ের কাপে বিশাল ফুলের আকৃতি স্থাপন, জুলাই কর্ণারসহ, বিভিন্ন ধরণের রাইড, দেশীয় পণ্যের শতাধিক স্টল স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অতিতের রেকর্ড অনুসারে প্রতিদিন ৪০-৫০ হাজার দর্শনার্থী এই ডিসি পার্কের উৎসবে যোগ দেয়। এজন্য আমরা সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। যেহেতু অনেক মানুষের সমাগম হবে আমরা কয়েকটি বুথে আগামী নির্বাচনের সাথে যে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, সেই গণভোটের প্রচারণা চালানো হবে। চট্টগ্রামের মানু আনন্দ করার পাশপাশি জাতীয় ইস্যুতে সচেতন হয়ে ওঠবেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলার স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জাামন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হকসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তরা। সীতাকুণ্ডের ইউএনও মো. ফখরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামনু।