টানা অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। জেলার সিংহভাগ উপজেলা এখনও পানির নিচে। চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তা মাসুদুর রহমানের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বন্যায় জেলায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলায়।
জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রামের মোট ১৭৬টি ইউনিয়ন, পৌরসভা ও মহানগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, আশ্রয়কেন্দ্রে হাজারো মানুষ
সরকারি হিসাব মতে, জেলার প্রায় ১৫ হাজার ২২৩টি বসতবাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানির তোড়ে ভেঙে গেছে ১৮০টি সেতু ও কালভার্ট। এছাড়া জেলার প্রায় ১৩২০ কিলোমিটার সড়ক পানির নিচে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে অনেক এলাকার সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বন্যার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে ৩৪২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম।
উপজেলাগুলোর মধ্যে সাতকানিয়া ও সন্দ্বীপের প্রায় ৮০% থেকে ৮৫% এলাকা এখন পানির নিচে। দুর্গত মানুষদের জেলায় বর্তমানে ৭৯টি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র সক্রিয় আছে। যেখানে বর্তমানে ৩ হাজার ৫৮০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি সাতকানিয়া ও বাঁশখালীতে।
ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার, আরও বরাদ্দের চাহিদা
উপজেলা প্রশাসন ও জেলা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে। এ পর্যন্ত জরুরি সহায়তা হিসেবে ৪৭৪ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ৩২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আরও ৫১৬ মেট্রিক টন চাল এবং ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মজুত রয়েছে।
তবে বন্যার ভয়াবহতা বিবেচনায় এই সাহায্য পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। দুর্যোগ মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে আরও ৬২২ মেট্রিক টন চাল এবং ১ কোটি ১৯ লাখ টাকার নতুন বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জরুরি চাহিদা পাঠানো হয়েছে। উপদ্রুত এলাকায় উদ্ধারকাজের পাশাপাশি শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।