Skip to main content

চট্টগ্রাম বুলেটিন

নারীর ক্ষমতায়ন: তথ্য ও প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবর্তনের পথে ১০১তম উঠান বৈঠক

 

নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে তথ্য ও প্রযুক্তির মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তারই লক্ষ্যে কাজ করছে সারাদেশের তথ্য আপারা। গতকাল ১৭ ডিসেম্বর সৈয়দপুর ইউনিয়নের উত্তর বাকখালী গ্রামে অনুষ্ঠিত হলো “তথ্য ও প্রযুক্তির মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়ন” দ্বিতীয় প্রকল্পের ১০১তম উঠান বৈঠক।

 

এই বৈঠকটি নারীদের আইনি, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন,  জাতীয় মহিলা সংস্থার চট্টগ্রাম জেলা কর্মকর্তা সাহানা পারভীন তিথি। তিনি বলেন, “তথ্য ও প্রযুক্তি নারীদের ক্ষমতায়ন ও জীবনের উন্নয়নে প্রধান ভূমিকা পালন করছে। এই প্রকল্পটি নারীদের ন্যায়বিচার পাওয়া এবং আত্মবিশ্বাসী হয়ে সমাজে নিজেদের স্থান তৈরি করার সুযোগ দিচ্ছে।

 

উঠান বৈঠকে গ্রাম আদালতের ভূমিকা, জেলা লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে আইনি সুরক্ষা এবং জাতীয় মহিলা সংস্থার সেবা নিয়ে আলোচনা করেন প্রধান বক্তা অতিরিক্ত জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট মোঃ সরোয়ার হোসাইন লাভলু।  তিনি বলেন, “নারীরা আইনি সচেতনতার মাধ্যমে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে। গ্রাম আদালত ও লিগ্যাল এইডের সেবা সাধারণ মানুষের কাছে ন্যায়বিচার পৌঁছে দিচ্ছে। তাই প্রত্যেক নারীকে এই সেবা সম্পর্কে জানতে হবে।

 

সীতাকুণ্ড গ্রাম আদালতের উপজেলা সমন্বয়কারী মোহসিনা মিনা নারীদের জন্য গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা ও সহজলভ্যতার কথা তুলে ধরেন। নারী উদ্যোক্তা সায়রা আমিন উদ্যোক্তা হিসেবে নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। এতে সঞ্চালনা করেন সীতাকুণ্ড উপজেলা তথ্য সেবা কর্মকর্তা আসমাউল হুসনা তন্বী। তার দক্ষ পরিচালনায় পুরো বৈঠকটি তথ্যসমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত হয়।

 

বৈঠকে বক্তারা বলেন, এই বৈঠকের উদ্দেশ্য হচ্ছে নারীদের অধিকার, ক্ষমতায়ন এবং আইনি সচেতনতা বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরা। জাতীয় মহিলা সংস্থার সেবাগুলোর কার্যক্রম, বিশেষত নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে তাদের ভূমিকা এবং তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে নারীদের আর্থিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের উপায় নিয়ে আলোচনা করা এবং তা নারীদের জানানো।

উদ্দেশ্য ও প্রভাব:
উঠান বৈঠকের মাধ্যমে নারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্ষমতায়নের পথ তৈরি এবং তাদের আইনি অধিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে অংশগ্রহণকারীরা নারীদের আত্মনির্ভরশীল হতে এবং আইনি সেবা গ্রহণে আগ্রহী হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত হয়েছেন।

 

বিশেষ অতিথিদের অভিমত:

নারীদের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সীতাকুণ্ড গ্রাম আদালতের উপজেলা সমন্বয়কারী মোহছেনা মিনা বলেন, “গ্রামীণ নারীরা গ্রাম আদালতের সেবা নিয়ে তাদের সমস্যার সমাধান করতে পারছেন, যা তাদের জীবন সহজতর করেছে।”

নারী উদ্যোক্তা সায়রা আমিন বলেন, “নারীদের আত্মনির্ভরশীল হতে হলে উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। এতে তারা অর্থনৈতিক দিক থেকে স্বাবলম্বী হয়ে সমাজে সম্মানজনক স্থান করে নিতে পারবে।”

“তথ্য ও প্রযুক্তির মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়ন” প্রকল্পের আওতায় এই ১০১তম উঠান বৈঠক নারীদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে আরেকটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হলো। অংশগ্রহণকারীরা এই বৈঠকের মাধ্যমে নতুন দিকনির্দেশনা পেয়েছেন এবং তাদের নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আরও সচেতন হয়েছেন। এই ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতে নারীদের আরও সাহসী ও ক্ষমতাবান করে তুলবে বলে আশা করা যায়।

Tags :

সর্বশেষ