সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিত্যক্ত পড়ে থাকা সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটের ‘জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড’-এর প্রায় ৫৫ একর জমিতে তৈরি হতে যাচ্ছে দেশের দ্বিতীয় আধুনিক সমরাস্ত্র কারখানা।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জলিল টেক্সটাইল প্রাঙ্গণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ‘বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি’র (বিওএফ) মধ্যে জমি হস্তান্তর ও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। গাজীপুরের পর এটিই হতে যাচ্ছে দেশে সমরাস্ত্র তৈরির দ্বিতীয় বৃহত্তম কারখানা।
অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, “দেশের সমরাস্ত্র শিল্পকে রপ্তানিমুখী শিল্পে পরিণত করার দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশেই বাংলাদেশের সমরাস্ত্রের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা সম্ভব হলে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও অস্ত্র রপ্তানি করে দেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে।” তিনি প্রকল্পের রূপায়ণে সহযোগিতা করায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির চৌধুরী প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, “বর্তমান বিশ্বে প্রতিরক্ষা শিল্প ও প্রযুক্তিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। এখন তুলনামূলক কম খরচে ড্রোনসহ নানা ধরনের আধুনিক সমরাস্ত্রের বাজার তৈরি হয়েছে। সরকার অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা পণ্য রপ্তানিতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় নীতিগত সহযোগিতা দেবে, যা দেশকে নতুন এক বৈশ্বিক উচ্চতায় নিয়ে যাবে।”
অনুষ্ঠানে সেনাসদর ও বাংলাদেশ বস্ত্র মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল শাহিনুল হক এবং বিটিএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহিদ হাসানসহ সেনাসদরের সামরিক উপদেষ্টা এ কে এম সামশুল ইসলাম এ সময় বক্তব্য রাখেন। সেনা কর্মকর্তারা জানান, রাষ্ট্রীয় একটি বন্ধ ও অকার্যকর শিল্পকারখানাকে নবরূপে চালু করে এই প্রকল্প দেশের কৌশলগত নিরাপত্তা বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা শিল্পকে স্বাবলম্বী করা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।
উল্লেখ্য, ১৯৬১ সালে ব্যক্তিমালিকানায় ৫৫ একর জমিতে বস্ত্র উৎপাদনের মাধ্যমে জলিল টেক্সটাইলের যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে জাতীয়করণ করা হলেও ক্রমাগত লোকসানের মুখে ২০০৪ সালে কারখানাটির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ ২২ বছর পর সেনাবাহিনীর হস্তান্তরে পরিত্যক্ত ভূমিটিতে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির আধুনিক সমরাস্ত্র কারখানা গড়ে উঠতে যাচ্ছে।