চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলায় পরিচালিত ২৮ মাস মেয়াদী এক গবেষণার চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেছে যে, সঠিক আগাম সতর্কবার্তা এবং পূর্বপ্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার মতো ধারাবাহিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। গবেষণার শুরুতে প্রকল্প এলাকায় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা যেখানে মাত্র ৬৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল, সেখানে বৈজ্ঞানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে চূড়ান্ত মূল্যায়নে তা ৯০.৫ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে। যা পূর্বনির্ধারিত ৩০ শতাংশ হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রাকে বিপুল ব্যবধানে ছাড়িয়ে গেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং সেভ দ্য চিলড্রেন, রিমস, ইপসা (YPSA) ও আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটসের যৌথ উদ্যোগে চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলায় এ গবেষণা পরিচালিত হয়।
সোমবার নগরীর আগ্রাবাদে একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় আনু্ষ্ঠানিকভাবে ইপসা গবেষণাটি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, এই সফলতার মূলে ছিল পরিবার ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে আগাম প্রস্তুতি নিশ্চিত করা, যার ফলে দুর্যোগের পূর্বাভাস পাওয়ার পর সম্পদ সুরক্ষিত করা এবং নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার মতো আগাম পদক্ষেপ গ্রহণের হার শুরুর মাত্র ৪ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৮৭.১ শতাংশে পৌঁছেছে। কার্যকর ও সক্রিয় আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থার আওতা সম্প্রসারণের ফলে পূর্বের ২৮ হাজার ৩৭৮ জনের বিপরীতে বর্তমানে ৪৩ হাজার ২৯৩ জন মানুষ সরাসরি এর সুফল ভোগ করছেন এবং পূর্বাভাস তথ্য পাওয়ার পর ৯৭.৯ শতাংশ উত্তরদাতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

ফলাফলে আরও জানানো হয়, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের এই প্রক্রিয়াকে টেকসই করতে স্থানীয় ও জাতীয় অংশীজনদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় পর্যায়ের ভূমিধস প্রোটোকল এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৭, ৯ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য তিনটি ওয়ার্ড-ভিত্তিক পূর্বপ্রস্তুতিমূলক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও চূড়ান্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, গবেষণার এই ইতিবাচক ফলাফল প্রমাণ করে যে, দুর্যোগের পর সাড়া দেওয়ার প্রথাগত পদ্ধতির চেয়ে দুর্যোগের পূর্বে পূর্বাভাসভিত্তিক আগাম কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ব্যবস্থাপনার মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ও বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি স্থায়ীভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি চসিকের সচিব আশরাফুল আমিন বলেন, চট্টগ্রামে দেদারছে যেমন পাহাড় কাটা হয়েছে তেমনি দখলও হয়েছে। আমাদের সবাইকে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। তাহলে দখল ও পাহাড় কাটা ঠেকানো যাবে। তিনি বলেন, সিডিএ’র মাাষ্টারপ্ল্যানে অনেক ভুল রয়েছে। তারা কোন খেলার মাঠ ও উন্নুক্ত স্থান রাখেনি। শহরকে পরিকল্পিতভাবে না গড়া হলে আমরাই ভুক্তভোগী হব। চসিকের উদ্যোগে অনেক মাঠ করা হচ্ছে। যেন আমাদের শিশুরা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু সিডিএ তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করলে শহর আরও সুন্দর হবে।
কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুর রহমান। তিনি একটি বর্ষা মৌসুমের প্রস্তুতি ও করণীয় নিয়ে একটি সেশন পরিচালনা করেন। এছাড়াও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ইকবাল সরোয়ার, চুয়েটের সহকারী অধ্যাপক এটিএম শাহজাহান, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসার মো. মাকসুদুর রহমান, ইপসার ম্যানেজার (গবেষণা, মনিটরিং ও ইভ্যালুয়েশন) মোরশেদ হোসেন মোল্লা, ইকো-হিপ প্রকল্প পরিচালক অরুণ দর্শী চাকমা বক্তব্য রাখেন।