দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া:
একটি ছোট্ট সুখের পরিবার। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে একটু আনন্দঘন সময় কাটাতে আদরের সন্তানকে নিয়ে বের হয়েছিলেন দম্পতি। কিন্তু সেই আনন্দভ্রমণই মুহূর্তের মধ্যে রূপ নিল হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী বিএমএ গেট এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক তারিন আক্তার এবং তার ২২ মাস বয়সি শিশুকন্যা ইয়াশা।
শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভাটিয়ারী বিএমএ গেট এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মা ও শিশুর লাশ বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিহত শিশুর বাবা জাকারিয়া হোসেন নয়ন। তাদের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৫ মে) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে ভাটিয়ারীর মনোরম এলাকায় ঘুরতে বের হয়েছিলেন তারিন আক্তার। দিনভর আনন্দঘন সময় কাটিয়ে তারা চট্টগ্রামের দিকে ফিরছিলেন। কিন্তু কেউ কল্পনাও করতে পারেননি, সেই ফেরার পথই হয়ে উঠবে জীবনের শেষ যাত্রা। পথে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হঠাৎ ছিটকে পড়ে যায় ২২ মাস বয়সি শিশু ইয়াশা। সন্তানের এমন বিপদ দেখে মাতৃত্বের টানে নিজেকে আর সামলাতে পারেননি মা। নিজের জীবনের ঝুঁকির কথা ভুলে দ্রুত ছুটে যান আদরের সন্তানকে বাঁচাতে। ঠিক সেই মুহূর্তে পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি গাড়ি মা ও শিশুকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলের বিভীষিকাময় দৃশ্য দেখে পথচারী ও স্থানীয়রা হতবাক হয়ে পড়েন।
স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার করে মা ও শিশুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক তারিন আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই নিভে যায় ছোট্ট ইয়াশার জীবনপ্রদীপ।
সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে তারা ভাটিয়ারীতে বেড়াতে এসেছিলেন। ফেরার পথে অসাবধানতাবশত মোটরসাইকেল থেকে আগে শিশুটি। এসময় পেছন থেকে আসা একটি গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে তারা গুরুতর আহত হন।
বার আউলিয়া হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হক বলেন, ‘ভাটিয়ারী বিএমএ গেট এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মা ও শিশুকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
এদিকে, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের কর্মকর্তা তারিন আক্তারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসন। এক শোকবার্তায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, তিনি অত্যন্ত ভদ্র, দায়িত্বশীল ও কর্মনিষ্ঠ একজন কর্মী ছিলেন। সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন আন্তরিক ও সবার প্রিয় মুখ। তার অকালমৃত্যু প্রশাসনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। এদিকে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে দিনদিন সড়ক দূর্ঘটনা বেড়েই চলছে। যা নিয়ে জনসাধারণের মধ্যেই একরকম বিস্ময়কর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।