Skip to main content

চট্টগ্রাম বুলেটিন

সীতাকুণ্ডের বিতর্কিত সাব-রেজিস্ট্রার রায়হান হাবিব স্ট্যান্ড রিলিজ, উপজেলায় মিষ্টি বিতরণ

অবশেষে সীতাকুণ্ডের বহুল বিতর্কিত দুর্নীতিবাজ সাব-রেজিস্ট্রার রায়হান হাবিবকে স্ট্যান্ড রিলিজ (তাৎক্ষণিক অবমুক্ত) করা হয়েছে। বুধবার ৯ মার্চ আইন মন্ত্রণালয়েয়ের ওয়েব সাইটে দেয়া এক প্রজ্ঞাপনে এ স্ট্যান্ড রিলিজের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে আগামী ১৩ মার্চ রোববারের মধ্যে তাকে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিতে বলা হয়। স্ট্যান্ড রিলিজের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার খন্দকার জামীলুর রহমান।

 

একই প্রজ্ঞাপনে নীলফামারি জেলার জলঢাকা সাব-রেজিস্ট্রার লুৎফুর রহমান মোল্লাকে সীতাকুণ্ডে বদলী করা হয়েছে। রায়হান হাবিবের স্ট্যাণ্ড রিলিজের খবরে জনমনে স্বস্তি নেমে এসেছে বলে জানা গেছে। উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন স্থানে মিষ্টিও বিতরণ করা হয়েছে বলে খবর এসেছে।

 

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার পরিষদের সামনের কয়েকজন দোকানি জানান, দলিল লেখকদের একটি অংশ সেনের দোকান থেকে মিষ্টি এনে কয়েকজনকে খাওয়াতে শুরু করেন। পরে জানা যায় রায়হান হাবিবের স্ট্যাণ্ড রিলিজের খবরেই মিষ্টি বিতরণ করা হচ্ছে।

এর আগে গত ৪ জুলাই’২০২৪ তারিখে সাব-রেজিস্ট্রার রায়হান হাবিবের ঘুষ দূর্নীতির অভিযোগ উঠে। পরে (তথৎকালীন) জেলা রেজিস্ট্রার মিশন চাকমার হস্তক্ষেপে ঘুষ দূর্নীতি না করার অঙ্গীকার দিয়ে ও ঘুষের লেনদেনকারী তার সহকারী এয়াকুবকে চাকরিতে বরখাস্ত করে সে যাত্রায় রক্ষা পান রায়হান হাবিব।

 

কিন্তু জুলাই বিপ্লবের পর ঘুষ লেনদেনে আরও বেপরোয়া হয়ে যান তিনি। বাধ্য হয়ে দলিল লেখকরা রায়হান হাবিবের অপসারণ দাবিতে জেলা রেজিস্ট্রারকে স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন করেন। এতেও কাজ না হলে ২৩ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের কলম বিরতিতে যান দলিল লেখকরা। সীতাকুণ্ড দলিল লেখক সমিতির ব্যানারে ওই কলম বিরতিতে সকল দলিল লেখক অংশগ্রহণ করেন। টানা ১২ দিন কলমবিরতিতে স্থবির হয়ে পড়ে সীতাকুণ্ড সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সকল কার্যক্রম। এরপরও বহাল তবিয়তে থেকে যান সাব-রেজিস্ট্রার রায়হান হাবিব।

অবশেষে দলিল লেখকদের আন্দোলনের পাঁচ মাস পর আজ স্ট্যান্ড রিলিজ হলেন সাব-রেজিস্ট্রার রায়হান হাবিব। এদিকে রায়হান হাবিবের স্ট্যান্ড রিলিজের খবরে স্বস্তি দেখা দিয়েছে সীতাকুণ্ডের দলিল লেখকদের মাঝে। একই সাথে উচ্ছসিত গোটা সীতাকুণ্ডবাসী।

জানা যায়। দূর্ণীতিবাজ এই সাব রেজিষ্ট্রার মোটা অঙ্কের টাকা ছাড়া করতো না কোন কাজ। ছোট খাট সুঁত ধরে কাজ আটকিয়ে আদায় করে নিতো মোটা অঙ্কের টাকা। টাকা না দিলে করতো অসদাচারণ ও লাইসেন্স বাহিলের হুমকি। অফিসে বসে টেবিলের উপর বসে অশ্লীল ভঙ্গিতে ফুকতেন সিগারেট।

এদিকে তার বিদায়ের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনরা নানা মন্তব্য করতে থাকে। আমানত নামের এক ব্যাক্তি লিখেছেন ” সে (রায়হান হাবিব) একটা ড্রাগ এডিক্টেড পারসন ছিলো,ঘুষখোর -ধান্ধাবাজ সাব রেজিষ্ট্রার ছিলো। পরবর্তীতে যে বা যারা আসবে, তাদের অগ্রিম সর্তক করতে হবে। তার ঘুষের বলি আমিও হয়েছি” ।

গত মার্চ মাসে রায়হান হাবিবকে প্বার্শবর্তী উপজেলা মীরসরাইতে খন্ডকালীন দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেখানে তার বিরুদ্ধে ঘুষ দূর্ণীতি ও অনিয়মের অভিযোগে দলিল লেখকরা কলম বিরতিতে পালন করলে, তাকে অপসারণ করা হয়। এর আগের কর্মস্থল ময়মনসিংহের ধুবাউড়া উপজেলায় তার বিরুদ্ধে দূর্ণীতির অভিযোগ পায় দুদক । দূর্ণীতির অভিযোগে সেখান থেকে তাকে বদলি করা হয়। এর আগে কুঁড়িগ্রামের রাজেরহাটে তার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও অসৌজন্য আচরেন বদলি করা হয়। এবার সীতাকুণ্ড থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত করা হয় এই দূর্ণীতিবাজ কর্মকর্তাকা রায়হান হাবিবকে।

চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার খন্দকার জামীলুর রহমান জানান, সীতাকুণ্ডের সাব-রেজিস্ট্রার রায়হান হাবিবের স্ট্যান্ড রিলিজের খবর শুনেছি। তবে এখনও প্রজ্ঞাপন হাতে পাইনি। তিনি বলেন, দলিল লেখকদের বদলী মানেই স্ট্যান্ড রিলিজ।

Tags :

সর্বশেষ