Skip to main content

চট্টগ্রাম বুলেটিন

সীতাকুণ্ডে এসএসসি ফলাফল: জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে দ্বিতীয় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে সীতাকুণ্ড উপজেলায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থান অর্জন করেছে সীতাকুণ্ড বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এবার বিদ্যালয়টির ৩০৪ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ২২৬ জন। বিদ্যালয়ের সার্বিক পাসের হার ৭৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়টির বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগ মিলিয়ে এবার ২৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যার হিসাবে উপজেলার বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সীতাকুণ্ড বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবস্থান দ্বিতীয়। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগের ফলাফল বিদ্যালয়ের সামগ্রিক অর্জনকে আরও উজ্জ্বল করেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে পাওয়া ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তিন বিভাগের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগেই সবচেয়ে ভালো ফলাফল করেছে শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে মোট ৮১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এ বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ গ্রেড জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১ জন শিক্ষার্থী। বিজ্ঞান বিভাগের পাসের হার ৯১ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

অন্যদিকে, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে মোট ১২৯ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৯১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এ বিভাগ থেকে ৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের পাসের হার ৭০ দশমিক ৫৪ শতাংশ। মানবিক বিভাগে এবার ৯৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৬১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এ বিভাগে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ না পেলেও সার্বিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

সব মিলিয়ে বিদ্যালয়টির ৩০৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২৬ জন পাস করেছে। অকৃতকার্য হয়েছে ৭৮ জন। তিন বিভাগে মোট ২৫ জন শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জন বিদ্যালয়ের এবারের ফলাফলের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক।

বিজ্ঞান বিভাগে ২১ জিপিএ-৫

বিদ্যালয়ের এবারের ফলাফলে সবচেয়ে বেশি সাফল্য এসেছে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে। মাত্র ৮১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২১ জনের জিপিএ-৫ অর্জনকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। অর্থাৎ বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জন করেছে। পাশাপাশি বিভাগটির পাসের হারও ৯০ শতাংশের ওপরে রয়েছে।

শিক্ষকরা মনে করছেন, নিয়মিত ক্লাস, শিক্ষার্থীদের প্রতি আলাদা নজরদারি, পরীক্ষার আগে ধারাবাহিক প্রস্তুতি এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সহযোগিতার কারণে বিজ্ঞান বিভাগের ফলাফল ভালো হয়েছে।

শিক্ষক-অভিভাবকদের সন্তোষ

ফলাফল প্রকাশের পর বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে। শিক্ষকরা জানান, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যয়ন, শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার সমন্বিত ফল হিসেবে এবারের এই সাফল্য এসেছে।

বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা বলেন, শুধু জিপিএ-৫ অর্জন নয়, সামগ্রিক পাসের হার আরও বাড়ানো এবং অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীদের ফলাফল উন্নত করার দিকেও আগামীতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তারা জানান, উপজেলায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থান অর্জন বিদ্যালয়ের জন্য আনন্দের ও গর্বের বিষয়। তবে এই অবস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি আগামী বছর আরও ভালো ফলাফল করার লক্ষ্য রয়েছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও সামর্থ্য অনুযায়ী সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া গেলে ভবিষ্যতে জিপিএ-৫-এর সংখ্যা আরও বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে সামগ্রিক পাসের হারও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে উপজেলার দ্বিতীয় অবস্থান এবং বিজ্ঞান বিভাগে ২১ জনসহ মোট ২৫ জনের জিপিএ-৫ অর্জন এবারের এসএসসি ফলাফলে সীতাকুণ্ড বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Tags :

সর্বশেষ