রাজাখালী-চাক্তাইয়ে ঝটিকা সফর
সংশ্লিষ্টদের তলব
চট্টগ্রাম নগরীর চাক্তাই ও রাজাখালী এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন এবং স্লুুইস গেটের (রেগুলেটর) কার্যকারিতা দেখতে ঝটিকা পরিদর্শনে গিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। এসময় চাক্তাই এলাকায় রেগুলেটরের সামনে আবর্জনার স্তূপ এবং জোয়ারের সময় স্লুইস গেটগুলোতে পানি প্রবেশ করতে দেখে তিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও দায়িত্বরত প্রকৌশলীদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাবদিহিতার জন্য জরুরি তলব করেছেন।
শুক্রবার রাতে নগরীর রাজাখালী ও চাক্তাই এলাকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্লুইস গেট ঝটিকা পরিদর্শনে যান সিডিএ চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন। এসময় সিডিএ’র কোন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না৷ পরিদর্শনকালে তিনি দেখতে পান, স্লুইস গেট দুটি সচল থাকা সত্ত্বেও জোয়ারের সময় বাইরে থেকে পানি ভেতরে প্রবেশ করছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের এমন ত্রুটি দেখে তিনি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ সময় তিনি স্লুইস গেট নির্মাণের সঙ্গে জড়িত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং সিডিএ-র সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের তলব করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন স্লুইস গেটে পানি প্রবেশ করছে, তার সুনির্দিষ্ট কারণ ও ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
খালে ময়লা ফেলা নিয়ে উদ্বেগ, মানসিকতা পরিবর্তনের আহ্বান
পরিদর্শনকালে চাক্তাই রেগুলেটরের সামনে যত্রতত্র ফেলা আবর্জনার বিশাল স্তূপ দেখে সিডিএ চেয়ারম্যান ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “চাক্তাই এলাকায় রেগুলেটরের সামনে আবর্জনার এই অবস্থা সত্যি অবাক হওয়ার মতো। আমাদের নাগরিক মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নালা-নর্দমা বা খালে বর্জ্য ফেলা যাবে না। যারা অসচেতনভাবে এবং দায়িত্বহীনভাবে স্লুইস গেটের মুখে ও খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন, তারা মূলত পুরো নগরীর মানুষের ক্ষতি করছেন।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এই শহরকে পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। আমি নগরীর সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা চাই। সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা এবং কোটি কোটি টাকায় নির্মিত এই স্লুইস গেটগুলো যেন সচল থাকে, সেজন্য খাল-নালায় ময়লা ফেলা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে জোর
সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে সিডিএ চেয়ারম্যান হিসেবে আমি কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম বরদাশত করবো না। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন যে, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের সুফল নিশ্চিত করতে এবং জনগণের ট্যাক্সের টাকায় নির্মিত অবকাঠামো সুরক্ষায় যেকোনো ধরনের ত্রুটি বা অবহেলার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।