চট্টগ্রাম বুলেটিন

তারুণ্যের সমাবেশঃ ছোটাছুটি করছেন গরমে অতিষ্ঠ নেতাকর্মীরা

বিশেষ প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিকাল তিনটা থেকে চলছে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলের তারুণ্যের মহাসমাবেশ। এদিন সকাল থেকেই চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মীরা সমবেত হতে শুরু করেন। বিকাল চারটায় সমাবেশস্থলে গাড়ি যোগে পৌঁছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আমলগীর। তবে তার বক্তব্য শুনতে নেতাকর্মীরা সকাল থেকে মুখিয়ে থাকলেও বহু নেতাকর্মীরা গরমে হাঁসফাঁস করছেন। বেশিরভাগ কর্মীরা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে এদিক-ওিদিক ছোটাছুটি করছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে গাড়িতে বসে থাকেন, কেউবা বাড়িতে চলে যাচ্ছেন।

চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, আজ চট্টগ্রাম জেলায় সর্ব্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫. ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিন্ম তাপমাত্রা হচ্ছে ২৮. ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাঈল ভূঁইয়্যা খবরের কাগজকে বলেন, গরমের তাপমাত্রা বিকাল ৩টা থেকে আমরা হিসেব করি। আগামী ২ দুই এক দিন এ ধরণের গরম অব্যাহত থাকবে। তবে বাতাসে আদ্রতার আদিক্যের কারণে মানুষের কাছে বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে। এটাকে বলা হয় অনুভূত তাপমাত্রা। বাতাসে জলীয়বাস্প কমে গেলে গরম কম অনুভূত হবে। তিনি আরও বলেন, কালকে চট্টগ্রামের কোথাও কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে বি-বাড়িয়া, কুমিল্লাতে বৃষ্টি হয়েছে। ১২, ১৩ মে বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। তাছাড়া এটি গরমের মাস। একইসাথে অনেক এলাকায় বৃষ্টি হলে গরম কমে আসবে। তবে বেশি পরিমাণে সবস্থানে বৃষ্টি না হলে গরম কমার সম্ভাবনা নেই। গরম কমার জন্য দুয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পলোগ্রাউন্ড মাঠকে বাঁশের বেষ্টনী দিয়ে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। মাঝখানে ছাত্রদল, আর দু্ইপাশে স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদল। সমাবেশে সিটি করপোরেশনের একাধিক গাড়ি থেকে পানি ছিটানো হচ্ছে। দুপুর দুইটা থেকে সমাবেশ হওয়ার কথা থাকলেও বিকাল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিকাল চারটার দিকে সমাবেশস্থলে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৌঁছান।

এসময় নেতাকর্মীদের এক স্থানে বেশিক্ষণ দাঁড়াতে দেখা যাচ্ছেনা। রোদের তীব্র খরতাপ কেউ সহ্য করতে পারছেন না। মাত্রাতিরিক্ত গরমে তারা এদিক ওদিক ঘুরাফেরা করছেন। সমাবেশে যে সংখ্যক মানুষ রয়েছে তার সমান পরিমাণ মানুষ সিআরবি, টাইগার পাস, কাজির দেউড়ি, রেলওয়ে স্কুল, লাভলেইন, লালখান বাজার এলাকায় ঘুরাফেরা করছে। অনেকেই সিআরবিতে গাছের ছায়াতলে বিশ্রাম নিচ্ছেন। কেউ কেউ পাহাড়ে ওঠে বক্তব্য শুনছেন। এসময় ঠান্ডা পানি, শরবত, মাঠা, আইসক্রিমের বিক্রি চাঙা হয়ে যায়। ক্লান্ত, তৃষ্ণার্ত হয়ে অনেকেই পানি কিনে নিচ্ছেন।

এসময় কয়েকজনের সাথে হয়। ফেনী থেকে আসা মো. মনজুর আলম বলেন, এতো বেশি গরম পড়ছে যা অসহ্যকর। এজন্য ভেতরে থাকা একপ্রকার অসম্ভব।

মিরসরাই থেকে আসা মো. আলাউদ্দিন বলেন, অনেকে সকালে এসেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। যার কারণে বিকালে অসহ্য হয়ে ওঠেছেন। বেশিরভাগ নেতাকর্মী গরমের কারণে পলোগ্রাউন্ড মাঠ ছাড়ছেন।

ইপিজেড থেকে আসা বিএনপি কর্মী নুরুল হক বলেন, হাসিনার সময়কালে আমরা আসতাম। কারণ তারা বলতো দেশে বিএনপি নেই। এই রাগ থেকে সবাই চলে আসতো। এখন তখনের চেয়ে মানুষ কম।

নারী কর্মী মোছাঃ কামরুন্নেছা বলেন, আজ গরমের মাত্রা অনেক বেশি। তার উপর মানুষের ভিড়ে গরম আরও বেশি মনে হচ্ছে।

Tags :

সর্বশেষ