চট্টগ্রাম বুলেটিন

সীতাকুণ্ডে র‍্যাবের অভিযানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে বিজিবির নায়েব সুবেদার নিহত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে র‍্যাব-৭–এর অধীনে অভিযানে থাকা বিজিবির নায়েব সুবেদার আব্দুল মোতালেব নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এতে র‍্যাবের আরও একজন সদস্য গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

রাত ৮টার দিকে র‍্যাব-৭–এর এক কর্মকর্তা আমাদের দেশকে নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অভিযানের সময় দুর্বৃত্তরা র‍্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। হামলার একপর্যায়ে তিন সদস্যকে আটকে রাখার খবর পাওয়া গেছে। তাদের উদ্ধারে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, “হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। এলাকার পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ।”

বিজিবির নায়েব সুবেদার পদমর্যাদাটি মূলত প্লাটুন কমান্ডারের দায়িত্ব পালনের পদ, যেখানে মাঠপর্যায়ের অপারেশনে নেতৃত্ব দেওয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিহত আব্দুল মোতালেব র‌্যাব-৭ এর অভিযানে সহায়ক বাহিনী হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

দীর্ঘদিনের দখল-সন্ত্রাসের গোপন ঘাঁটি:

জানা গেছে, সীতাকুণ্ডের সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় প্রায় চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় ও খাস জমি দখল করে গড়ে উঠেছে হাজার হাজার অবৈধ বসতি। দুর্গম পাহাড়ি পরিবেশ কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়খেকো, ভূমিদস্যু ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এখানে শক্ত ঘাঁটি গড়ে তুলেছে। এলাকাটি এখনো সশস্ত্র পাহারায় নিয়ন্ত্রিত হয়। বহিরাগতদের প্রবেশ সেখানে কার্যত নিষিদ্ধ।

 

জেলা প্রশাসন সূত্র বলছে, প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর আয়তনের জঙ্গল সলিমপুরে লিংক রোড সংলগ্ন প্রতি শতক জমির বাজারমূল্য ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা। সে হিসেবে সরকারি খাসজমি দখলের বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল অর্থনৈতিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে এলাকায় সংঘাত, খুনোখুনি ও সন্ত্রাসী তৎপরতা প্রায় নিয়মিত।

গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়। এরপর একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটে—সবই পাহাড় দখলকে কেন্দ্র করে। কিছুদিন আগে দুই পক্ষের গোলাগুলিতে একজন নিহত হন। পরদিন সংবাদ সংগ্রহে গেলে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন দুই সাংবাদিক।

এর আগেও এ এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে প্রশাসন হামলার মুখে পড়ে। ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর উচ্ছেদ অভিযান শেষে ফেরার পথে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ওসি ও পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। ২০২২ সালেও র‍্যাব, পুলিশ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ওপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটে।

Tags :

সর্বশেষ