চট্টগ্রাম বুলেটিন

ঈদে পর্যটকে মুখরিত হবে কক্সবাজার: ১০ লাখ মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা

পর্যটন রাজধানীখ্যাত কক্সবাজারে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যাপক প্রস্তুতি। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ধারণা, এবারের ঈদে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে রেকর্ড পরিমাণ সমাগম হবে এবং পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত থাকবে সমুদ্রসৈকতসহ সব পর্যটন স্পট। হোটেল-মোটেলে অগ্রিম বুকিংয়ের ধুম।  ঈদের ছুটি কাটাতে পর্যটকরা এবার আগেভাগেই কক্সবাজারকে বেছে নিয়েছেন। প্রাপ্ত তথ্যমতে: তারকা মানের হোটেল: শহরের বড় বড় তারকা মানের হোটেল ও রিসোর্টগুলোতে ঈদের দিন থেকে টানা সাতদিন কোনো রুম খালি নেই।

মাঝারি মানের হোটেল: হিলভিউ, কক্স টুডে ও সায়মান রিসোর্টের মতো হোটেলগুলোতে ২০ থেকে ২৪ মার্চের মধ্যে অধিকাংশ রুম অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। বুকিং পরিস্থিতি: জেলার পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউসের প্রায় সবকটিই ঈদের প্রথম তিন দিনের জন্য প্রায় শতভাগ বুকিং। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতি পর্যটকদের আতিথেয়তায় মুগ্ধ করতে পর্যটন খাতের প্রতিটি সেক্টরেই সংস্কার ও সাজসজ্জার কাজ চলছে।

হিলভিউ হোটেলের ম্যানেজিং পার্টনার রহমত উল্লাহ জানান, ২২-২৪ মার্চের অগ্রিম বুকিং সামলাতে এখন হোটেলের মেরামত ও সাজসজ্জা চলছে।সায়মান রিসোর্টের আসাদুজ্জামান নূর জানান, তাদের হোটেলে ঈদের পর টানা ছয়দিন সম্পূর্ণ বুকিং রয়েছে এবং বর্তমানে রেনুভেশনের কাজ চলছে। টুয়াক (TOAC)-এর সাবেক সভাপতি রেজাউল করিমের মতে, কক্সবাজারে প্রতিদিন ১ লাখ ২০ হাজার মানুষের থাকার সক্ষমতা রয়েছে। এবারের টানা ১০ দিনের ছুটিতে প্রতিদিন গড়ে লাখের বেশি পর্যটক আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রত্যাশিত সমাগম: হোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার আশা প্রকাশ করেছেন যে, এবারের ১০ দিনের ছুটিতে কক্সবাজারে ৫ থেকে ১০ লাখ পর্যটকের সমাগম হতে পারে।

প্রশাসন ও পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা

বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। জেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি: জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্য ভ্রমণে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। বিশেষ করে হোটেলগুলোতে যেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করা হয়, সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: কক্সবাজার পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় শহর ও স্পটগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। কোনো পর্যটক যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে সাদা পোশাকেও পুলিশ কাজ করবে।

ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘ ছুটির কারণে এবারের ঈদ মৌসুম পর্যটন খাতের জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

 

Tags :

সর্বশেষ