চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও আকবরশাহ এলাকায় একদিনের ব্যবধানে দায়িত্ব পালনকালে দুইজন রেলওয়ে গেটকিপার হামলার শিকার হয়েছেন। নিরাপত্তা বিধি মেনে কাজ করতে গিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ও তাঁদের সহযোগীদের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় রেলওয়ে কর্মচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সীতাকুণ্ডে পুলিশের সামনেই পুনরায় হামলা
মঙ্গলবার (১২ মে) সীতাকুণ্ড পৌর সদরের কলেজ রোড রেলগেট এলাকায় মোঃ ফারুক (৩২) নামে এক রেলওয়ে গেটকিপারকে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় চিহ্নিত ক্যাডার পরিচয়দানকারীদের বিরুদ্ধে। ঘটনার সূত্রপাত হয় একটি চট্টগ্রামমুখী মালবাহী ট্রেন অতিক্রম করার সময়। নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী ফারুক গেট ব্যারিয়ার নামিয়ে রাখলে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি প্রায় ৪৫ মিনিট গেট আটকে রাখার মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
ঘটনার পর সীতাকুণ্ড রেল পুলিশের উপ-পরিদর্শক দীপক সাহা এবং সহকারী স্টেশন মাস্টার আতিকুর রহমানের উপস্থিতিতে একটি সমঝোতা বৈঠক বসে। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের সামনেই ওই হামলাকারীরা পুনরায় ফারুকের ওপর চড়াও হয় এবং তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। সহকারী স্টেশন মাস্টার আতিকুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, পুলিশের সামনে এই ঘটনা ঘটলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, বরং বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
আকবরশাহ এলাকায় গেটকিপারের উপর প্রভাবশালী গাড়িচালকের হামলা
অন্যদিকে, চট্টগ্রামের আকবরশাহ থানাধীন সিডিএ ১ নম্বর রেল গেট এলাকায় আরও এক গেটকিপার হামলার শিকার হয়েছেন। ট্রেন চলাচলের কারণে গেট খুলতে কিছুটা দেরি হওয়ায় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার গাড়িচালক ওই গেটকিপারকে কোপানোর উদ্দেশ্যে তেড়ে যান। তবে এই ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগের ভিত্তিতে আকবরশাহ থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ওই গাড়িচালককে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।

কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক
পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে সংসদীয় আসন সীতাকুণ্ডে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাতে রেলওয়ে কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ভুক্তভোগী ওমর ফারুক বর্তমানে তাঁর নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।