চট্টগ্রাম বুলেটিন

দল ক্ষমতায় আসার পর এমপি-মন্ত্রীরা ভাব দেখাচ্ছে: মাহমুদা আক্তার

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় আসার পর দলের কিছু সংসদ সদস্য (এমপি) ও মন্ত্রীদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদা আক্তার লিটা। তিনি অভিযোগ করেছেন, দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন না করে অনেকেই এখন নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত রয়েছেন।

গত সোমবার (১ জুন) রাতে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তবে ঠিক কোন নির্দিষ্ট ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি এই পোস্টটি দিয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট জানা যায়নি।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে দেওয়ান মাহমুদা আক্তার লিটা লেখেন, “দল ক্ষমতায় আসার পর এমপি-মন্ত্রীরা ভাব দেখাচ্ছে যে, তারা চাইলেও কর্মীদের জন্য কিছু করতে পারছেন না। তারা অজুহাত দিচ্ছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নাকি তাদেরকে সার্বক্ষণিক নজরে রাখছেন। অথচ পর্দার আড়ালে তারা নিজের পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়-স্বজনদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সেটিং করার কাজ ঠিকই নীরবে করে যাচ্ছেন।”

মহিলাদল নেত্রীর এই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। সাধারণ নেতা-কর্মীরা এই পোস্টের নিচে মন্তব্যের ঘরে তাদের দীর্ঘদিনের জমানো ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন।

এমডি রহমতুল্লাহ নামে একজন মন্তব্যকারী দলের ভেতরের সুবিধাবাদীদের ইঙ্গিত করে লিখেছেন, “রানু আপার ভাগ্নে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সিএসএফ (CSF), অথচ এই রানু আপা ২০১৫ সালের পর মাঠ ছেড়ে দিয়ে নিজাম হাজারীর সাথে সমঝোতায় ছিলেন।”

পোস্টটিতে অধিকাংশ মন্তব্যকারীই নেত্রীর এই সাহসী ও সত্য বক্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। অনেকেই লিখেছেন, “আপা একদম ঠিক কথা বলেছেন”, “একদম সঠিক বলেছেন”। আবার কেউ কেউ লিখেছেন, “নিষ্ঠুর সত্য কথাটি সাহসের সাথে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন।”

নেতা-কর্মীদের বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরে অন্য একজন মন্তব্যকারী আক্ষেপ করে লিখেছেন, “রাজপথে পুলিশের লাঠির বাড়ি খাবে সাধারণ কর্মীরা, জেল-জুলুম ও মামলার শিকার হবে কর্মীরা; আর দল ক্ষমতায় আসলে ক্ষমতার সুধা ও মজা লুটবে মন্ত্রী-এমপিদের ছেলেমেয়েরা। এটাই যেন আজ নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

ক্ষমতাসীন দলের এই গুরুত্বপূর্ণ নেত্রীর এমন স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক মহলে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বর্তমানে তোলপাড় চলছে। ত্যাগী কর্মীদের অবমূল্যায়ন নিয়ে তৃণমূলের এই ক্ষোভের বিষয়ে স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tags :

সর্বশেষ