Skip to main content

চট্টগ্রাম বুলেটিন

সিডিএ চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেনের যে উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে নগর

বিশেষ প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেনের একের পর এক প্রশংসনীয় ও কঠোর পদক্ষেপে বদলাতে শুরু করেছে চট্টগ্রাম নগরীর সার্বিক চিত্র। দীর্ঘদিনের যানজট, জলাবদ্ধতা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে শুরু করেছেন নগরবাসী। সিডিএ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নগরকে ঢেলে সাজানোর যে মহাপরিকল্পনা ও পদক্ষেপ তিনি গ্রহণ করেছেন, তা ইতোমধ্যে সুফল দিতে শুরু করেছে।

যানজট নিরসনে নজিরবিহীন অভিযান: গত ১৫ দিন ধরে নগরীর ব্যস্ততম এলাকাগুলোর বেসরকারি হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সিডিএ পরিচালনা করছে বিশেষ অভিযান। জিইসি মোড়ের ও আর নিজাম রোড, মেহেদীবাগ রোড, কাতালগঞ্জ ও সার্সন রোড এলাকার চিহ্নিত যানজটপ্রবণ পয়েন্টগুলোতে এই অভিযানের ইতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান। পার্কিং বিধিমালা লঙ্ঘনকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।

অভিযানে ও আর নিজাম রোডের বেসরকারি মেট্রোপলিটন হাসপাতাল, মেডিকেল সেন্টার, সিএসসিআর; মেহেদীবাগের ন্যাশনাল হাসপাতাল ও ম্যাক্স হাসপাতাল; এবং কাতালগঞ্জের ইবনে সিনা, পার্কভিউ, ডেল্টা ও ডক্টরস হাসপাতালে বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ে। হাসপাতালগুলোর অধিকাংশের নিজস্ব পার্কিং স্পেস নেই; অনেক স্থানে পার্কিংয়ের জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে দোকান, ক্যান্টিন কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাসের গুদাম। ফলে প্রধান রাস্তার ওপর গাড়ি পার্কিং করে দীর্ঘদিনের কৃত্রিম যানজট তৈরি করা হতো।
একইভাবে চিটাগং গ্রামার স্কুল ও চিটাগং আইডিয়াল স্কুলের মতো নামীদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে হাজারও শিক্ষার্থীর যাতায়াত থাকলেও পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা না থাকায় জামালখান থেকে চকবাজার গনি বেকারি পর্যন্ত পুরো এলাকা থমকে যেত। গ্রামার স্কুলে প্রায় ১২০০ শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও পার্কিং স্পেস ছিল মাত্র দুটি। এসব প্রতিষ্ঠানকে আগামী এক মাসের মধ্যে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার কঠোর আল্টিমেটাম এবং নকশাবহির্ভূত ভবন ব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়েছে সিডিএ। একই সঙ্গে সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলকে নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন চেয়ারম্যান। প্রয়োজনে এডুকেশন জোন গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি।

উদ্যোগের সুফল পাচ্ছে নগরবাসী: সিডিএ-র এই কঠোর অবস্থানের ফলে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানেই নগরীর সড়কগুলোতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মেহেদীবাগ রোডের ন্যাশনাল হাসপাতাল ও গোলপাহাড় মোড়ের হাসপাতালগুলোর সামনে বৃহস্পতিবার রাতে কোনো যানজট ছিল না। আগের তুলনায় সচেতন হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই চিত্র দেখা গেছে কাতালগঞ্জের পার্কভিউ ও ইবনে সিনা হাসপাতাল এলাকাতেও।

প্রতিনিয়ত যাতায়াতকারী মেহেদী হাসান নামে এক নগরবাসী অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “আগে কখনো কোনো সিডিএ চেয়ারম্যানকে এভাবে সরেজমিনে হাসপাতালে অভিযান চালাতে দেখিনি। প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের এই যুগান্তকারী উদ্যোগ নগরবাসীর জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে।”

অন্যান্য সাধারণ নাগরিক ও পথচারীরাও জানান, সিডিএ-র তদারকির কারণে এখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষগুলোও সচেতন হয়েছে। নিজেদের নিরাপত্তাকর্মী দিয়ে রাস্তার ওপর যানজট না করার বিষয়টি নিশ্চিত করছে তারা।

সমন্বিত নেতৃত্ব ও সুশাসন: নগরকে যানজটমুক্ত করতে সিডিএ চেয়ারম্যানের এই উদ্যোগ সফল হচ্ছে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার কারণে। চেয়ারম্যান জানান, “সিএমপি কমিশনার, চসিক মেয়র এবং ওয়াসা এমডিসহ আমরা সবাই একমত হয়েছি যে নগরে কোনো যানজট রাখব না। আমাদের এই যৌথ প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম অবশ্যই যানজটমুক্ত হবে।”
অভিযানকালে ডেল্টা হাসপাতালের সরু পার্কিংয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে রোগী নামানো এবং আগুন লাগার মতো ঝুঁকির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “বিত্তবান ও নামীদামি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আবেদন—নিজের স্বার্থের পাশাপাশি নগরবাসীর সুবিধার কথা ভাবুন। এসব প্রতিষ্ঠান যথেষ্ট সামর্থ্যবান, তারা চাইলেই পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা তৈরি করতে পারে।” নগরের ৮০ শতাংশ হাসপাতালে কোন পার্কিং ব্যবস্থা না থাকাই যানজটের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতালগুলো পর্যাপ্ত পার্কিং রাখলে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলগুলো নিজস্ব ভবনে পাঠদান শুরু করলে নগরে কোন যানজট থাকবেনা বলেও মনে করেন তিনি।

২৫ বছরের মাস্টারপ্ল্যান ও জলাবদ্ধতা নিরসন: শুধু যানজট নিরসনই নয়, নগরীর দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নেও গতি এনেছেন প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। তাঁর নিবিড় তদারকিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর ২৫ বছরের মাস্টারপ্ল্যান প্রকল্পের কাজের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে, যার প্রায় ৮৭ শতাংশ ভৌতিক কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই মহাপরিকল্পনার আওতায় পার্শ্ববর্তী কয়েকটি উপজেলাকে যুক্ত করে নগরের আয়তন বাড়িয়ে প্রায় ১২০০ বর্গকিলোমিটারে উন্নীত করা হচ্ছে। সাংবাদিক, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, সমাজকর্মী ও পরিবেশবিদসহ বিভিন্ন স্তরের বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে তিনি সম্প্রতি এর গণশুনানির ঘোষণাও দিয়েছেন।

অন্যদিকে, চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জলাবদ্ধতা নিরসনেও তিনি পালন করেছেন অগ্রণী ভূমিকা। ৪১২ মিলিমিটারের রেকর্ড বৃষ্টিপাতের পরও নগরবাসীকে বড় ধরনের জলবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে সিডিএ। সরজমিনে ঘুরে ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ভোর থেকে রাত অবধি খালগুলো তদারকি করেন তিনি এবং চসিক মেয়রের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখেন।

নগরের সীমা ছাড়িয়ে সীতাকুণ্ডের ছিলিমপুর আবাসিক এলাকা পরিদর্শন করেও সেখানকার অধিবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন সিডিএ চেয়ারম্যান। নালা-খালে ময়লা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার আহ্বান জানানো এবং ইমারত বিধিমালা বজায় রাখতে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করছেন তিনি।

প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের এসব দূরদর্শী ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপের ফলে চট্টগ্রাম শহর তার হারিয়ে যাওয়া শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্য ফিরে পেতে শুরু করেছে। বিশিষ্টজনেরা মনে করছেন, এই গতি বজায় থাকলে খুব শিগগিরই চট্টগ্রাম একটি আধুনিক, যানজটমুক্ত ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত হবে।

সচেতন মহলের মতে, শুরুর দিকে অনেকেই মনে করেছিলেন বেলায়েত হোসেন হয়তো পারবে না, কিন্তুু তিনি সবাইকে একেবারে তাক লাগিয়ে দারুণ তালে কাজ চালাচ্ছেন৷ যা অতিতের কোন চেয়ারম্যান করেননি। তার মধ্যে এমন ক্যারিশম্যাটিক গুণ রয়েছে তা অনেকেরই জানা ছিলো না। একটি সূত্র বলছে, সিডিএ চেয়ারম্যানের আন্তরিকতা ও কাজের গতি দেখে স্বয় সংস্থাটির কর্মকর্তারাও হতবাক৷

কখনও কল্পলোক আবাসিকে উচ্ছেদ অভিযান, কখনও হাসপাতাল পরিদর্শন অভিযান, আবার কখনও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পরিদর্শন ও উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি তদারকি করছেন বেলায়েত হোসেন। এসব কর্মকাণ্ডে কর্মকর্তারাই বিস্মিত। তারা অনেকে বলছেন, সত্যি ডায়নামিক সিডিএ চেয়ারম্যান আমাদের জাগিয়ে তুলেছেন। তিনি যেভাবে প্রধানমন্ত্রীর অফিস টাইমকে বাস্তবায়ন করলেন নিজে সকাল ৯টার পূর্বে এসে তা সিডিএ’র ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শুধু তাই নয় তিনি প্রথমে নগর ভবনকে বদলাতে শুরু করেন। এরপর হাত দিয়েছেন নগরে৷ তিনিই পারবেন, তার দ্বারাই সম্ভব।

Tags :

সর্বশেষ