ইসকনের বিতর্কিত কার্যক্রম ও আইনি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা
ইসকন (আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ) একটি ধর্মীয় সংগঠন হিসেবে পরিচিত। এটি মূলত হিন্দু ধর্মের প্রচার ও প্রসারে কাজ করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হলেও সম্প্রতি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে ইসকনের বিরুদ্ধে ধর্মীয় উসকানি, সম্প্রদায়গত উত্তেজনা সৃষ্টি এবং জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাদেশের সন্ত্রাস দমন আইন, ২০০৯-এর আলোকে ইসকনকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে, এডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর এ দাবিটি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।
ইসকনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
১. ধর্মীয় উসকানি:
ইসকনের কার্যক্রমে অন্য ধর্মের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য ও আচরণের অভিযোগ রয়েছে, যা ধর্মীয় সম্প্রীতির পরিপন্থী।
২. সম্প্রদায়গত উত্তেজনা সৃষ্টি:
ইসকনের বিভিন্ন কর্মসূচি ও বক্তব্য অনেক সময় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা ও বিভেদ সৃষ্টি করেছে।
৩. এডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাকাণ্ড:
২৬ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে এডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ইসকনের ধর্মীয় উগ্রতার প্রতিবাদ করায় তাকে টার্গেট করা হয়।
তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা ইসকনের সদস্যদের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করেছে।
আইনি দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রাসঙ্গিক আইন
ইসকনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যে আইনি ধারা প্রয়োগ করা যেতে পারে, তা হলো:
I. সন্ত্রাস দমন আইন, ২০০৯:
ধারা ৬ ও ৭: রাষ্ট্রবিরোধী বা ধর্মীয় উদ্দেশ্যে সংঘটিত হিংসাত্মক কার্যক্রম পরিচালনায় জড়িত সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার বিধান।
II. ফৌজদারি দণ্ডবিধি, ১৫৩এ ধারা:
বিভিন্ন ধর্ম বা সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘৃণা বা শত্রুতা ছড়ানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
III. সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদ:
ধর্মীয় স্বাধীনতার নামে অন্য ধর্মকে অবমাননা নিষিদ্ধ।
উচ্চ আদালতে নিষিদ্ধ ঘোষণার প্রক্রিয়া
তদন্ত ও প্রমাণ সংগ্রহ:
ইসকনের কার্যক্রম ও অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সংগ্রহ এবং উচ্চ আদালতে দাখিল করা।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন উপস্থাপন:
ইসকনের বিরুদ্ধে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালতের মনোযোগ আকর্ষণ।
বিশেষজ্ঞ মতামত:
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত উপস্থাপন করে সংগঠনটির কার্যক্রমের সঠিক মূল্যায়ন।
ইতিহাস থেকে শিক্ষা
বাংলাদেশ অতীতে জামায়াতে মোজাহেদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) এবং হরকাতুল জিহাদ (হুজি)-এর মতো সংগঠনগুলোকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ করেছে। ইসকনের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে একইভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইসকনের মতো সংগঠনের কার্যক্রম সঠিকভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। প্রমাণিত হলে, সন্ত্রাস দমন আইন অনুসারে ইসকনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা উচিত। আদালত এবং আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা দেশকে বিভেদের হাত থেকে রক্ষা করবে।
লেখক:
এডভোকেট মোহাম্মদ সরোয়ার হোসাইন লাভলু
অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, চট্টগ্রাম
চেয়ারম্যান, দিশারী যুব ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।