দুই দিনের সরকারি সফরের অংশ হিসেবে আজ শনিবার সন্দ্বীপ পৌঁছেছেন বিদ্যুৎ,জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়,সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জনাব মুহাম্মদ ফাউজুল কবির খান। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোঃ রেজাউল মাকসুদ জাহেদী,
সড়ক ও সেতু বিভাগের সচিব ডঃ মোঃ জিয়াউল হক, অর্থ বিভাগের সচিব ডঃ মুহাম্মদ খায়রুজ্জামান মজুমদার, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড.নুরনাহার চৌধুরী, বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমোডর আরিফ আহমেদ মোস্তফা, বিআইডব্লিউটিসি চেয়ারম্যান মোঃ সলিমুল্লাহ, সড়ক ও জনপদ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মইনুল হাসান, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ রেজাউল করিম, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোঃ মাহবুবুর রহমান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ডঃ মুহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমূহের কর্মকর্তাবৃন্দ।
সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী দিনের শুরুতেই কর্মকর্তারা গুপ্তছড়া বাজার থেকে দলইপাড়া পর্যন্ত চলমান সড়কের কাজ, বেড়িবাঁধের উন্নয়ন কাজ, দেলোয়ার খাঁ সড়ক, ফেরিঘাট এলাকার নাব্যতা সংকট এবং বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন–সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় তারা চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি, নকশা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা, বরাদ্দ পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে বিস্তারিত ব্রিফিং নেন। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে স্থানীয় জনগণ উপদেষ্টা ও সচিবদের কাছে একাধিক সমস্যা তুলে ধরেন—বিশেষ করে ফেরীঘাটে স্থায়ী ড্রেজিং ব্যবস্থা, বেড়িবাঁধের দুরবস্থা, রাস্তাঘাটের সংকীর্ণতা, বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজ সমস্যা এবং নতুন সংযোগের জটিলতা। কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন।
পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা ও সচিবদের সঙ্গে কথা বলার সময় সাংবাদিকরা কয়েকটি প্রশ্ন তোলেন, যার উত্তর তারা সফর শেষে জানানোর আশ্বাস দেন। ফেরিঘাটে নাব্যতা সংকট ও টেকসই ড্রেজিং নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নৌপরিবহন সচিব ড.নূরনাহার চৌধুরী আমার দেশকে বলেন- সন্দ্বীপ চ্যানেলে পলিমাটির আধিক্যের কারণে ড্রেজিং করার পরে দ্রুত ড্রেজিংকৃত স্থান ভরাট হয়ে যাচ্ছে। সমস্যাটির টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে গবেষণা চলছে। শীঘ্রই নাব্যতা সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। রিং রোড প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এডিজি মোঃ মাহবুবুর রহমান আমার দেশকে বলেন, ইতিমধ্যে একটি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়েছে। সন্দ্বীপের চারপাশের বেড়িবাঁধকে চারটি ভাগে ভাগ করে রিং রোড তৈরির পরিকল্পনা চলছে।
সরকারি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা জানান, আগামীকাল রোববার আরও কয়েকটি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে তারা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক ও একটি মতবিনিময় সভা করবেন। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আগামীকালের সভায় মূলত আলোচনা হবে স্থায়ী ড্রেজিং ব্যবস্থা, রিং রোড নির্মাণ, গুপ্তছড়া সড়ক প্রশস্তকরণ, দেলোয়ার খাঁ সড়ক সংস্কার, নতুন বিদ্যুৎ সংযোগসহ মোট কয়েকটি জরুরি দাবি— যা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
সরকারি এই উচ্চপর্যায়ের সফর থেকে স্থানীয়রা বাস্তবসম্মত সমাধান ও স্পষ্ট আশ্বাস পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন।