চট্টগ্রাম বুলেটিন

পরিকল্পিত, নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়তে প্রয়োজনে সংসদে কথা বলবেন এমপিরা

সিডিএতে সংসদ সদস্যদের নিয়ে সমন্বয় সভা

আসন ভিত্তিক কাজ সমন্বয়ের প্রস্তাব সাঈদ আল নোমানের

ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যার হোক কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ চান এমপিরা

চট্টগ্রামকে পরিকল্পিত উন্নয়নের শহর, শতভাগ বাণিজ্যিক রাজধানী , সবুজ, টেকসই, নান্দনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনে সংসদেও কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা। তারা বলেছেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে সত্যিকারে জনবান্ধব সংস্থায় রুপ দিতে সংসদে তারা নিয়মিত কথা বলবেন। চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করে মাষ্টারপ্লানের প্রেক্ষিতে শহরের উপর চাপ কমিয়ে উপশহর গড়ে তুলতে তারা সমন্বিতভাবে কাজ করবেন। তবে সিডিএ তাদের নিজস্ব গতি না বাড়ালে তা কখনও সম্ভব না।

 

শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় এসব কথা বলেন চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যরা। সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য জহিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে বিজয়ী বিএনপির সংসদ সদস্য (শপথে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ) সরওয়ার আলমগীর, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শাকিলা ফারজানা।

 

সমন্বয় সভায় সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, জমির দাম তিনগুণ দিয়ে সিডিএ’র পক্ষে কখনও প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব না। এটি আইন করে পরিবর্তন করা জরুরী। তাছাড়া অপরিকল্পিত নগরায়ন ঠেকাতে সকল সেবা সংস্থার সাথে সমন্বয় করতে হবে। সিডিএকে তখনি ভবনের প্লান অনুমোদন করতে হবে যখন কেউ বিদ্যুৎ, পানিসব সবকটি সংস্থার সংযোগ পাবে। এখন তার উল্টো হয়। সিডিএ অনুমোদন দেয় বলে অন্যগুলো পেয়ে যায় সহজে। আমরা নতুন আইন নিয়ে সংসদে কথা বলব। তিনি বলেন, তবে সিডিএ’র অতিত গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে। এই সংস্থার অনেক বদনাম রয়েছে। ফ্যাসিস্ট আমলে অনেক দুর্নীতি ঘিরে ফেলে অফিসটাকে। আমরা চাইনা সেটার পুনরাবৃত্তি ঘটুক।

 

সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম বলেন, সিডিএ তাদের আইন প্রয়োগ করলে কখনও শহরে ৬ তলা অনুমোদন নিয়ে ১২ তলা করতে পারবে না। মানুষকে সিডিএ’র আইন সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। তাদেরকে বুঝাতে হবে ১০ বছর পরে হলেও আপনার ভবন ভেঙে ফেলা হবে।

 

সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, সিডিএ’র স্বার্থে তথা নগরের স্বার্থে আমরা সব এমপি প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাব। প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ পেতে হলে আমরা সহযোগিতা করব। আইন সংস্কার করতে হলেও আমরা সংসদে কথা বলব। তবে চট্টগ্রামে কোথায় কি ধরণের ভবন গড়ে ওঠছে তা আপনার ভালো জানেন। এটি ঠেকানো আপনাদের দায়িত্ব। খাল, নালা দখলের কারণে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা হচ্ছে। নগরবাসী অনেক কষ্ট করছে। তাদেরও অসচেনতা আছে সেটি সমন্বিতভাবে বুঝাতে হবে।

সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, সবচেয়ে জরুরী হলো সমন্বয়। যা যুগ যুগ ধরে হচ্ছে না। তাছাড়া মাষ্টারপ্লান প্রণয়ন হলেও সেটি মানা হয়না। কারণ কারো কোন সমন্বয় নেই। আজকে সবএমপিদের এই ধরণের সমন্বয় হয়েছে। এটার ধারাবাহিকতা থাকতে হবে। আর সিডিএ চেয়ারম্যান যদি তার ক্ষমতা পুরোপুরি প্রয়োগ করেন চট্টগ্রাম অনেক সুন্দর হয়ে ওঠবে। তিনি ক্ষমতাবান ব্যক্তিকে যদি বারবার অবৈধ অনুরোধে না করেন তাহলেই কাজটা হবে। সবার মন রক্ষা করে কখনও কাজ হয়না। আইনটা প্রয়োগ সবা্র আগে নিশ্চিত করতে হবে। আর সমস্যাগুলো আসন ভিত্তিক যদি এমপিদের সাথে সমন্বয় করা যায়। কি করতে চায় সিডিএ? তাদের পথনকশা কি? তাহলেই অনেক ভালো কাজ হবে। এই শহরকে বাঁচাতে সিডিএ’কে অনেক কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। যা অনেক ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাইনা।

 

সভায় সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, চট্টগ্রামের অনেক আবাসিক এলাকা অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠেছে। কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যার ফলে নগরের ভবন মালিকরা আইনের তোয়াক্কা করেনি। অথবা এখানে দুর্নীতি হয়েছে। সিডিএ সম্পর্কে অনেক খারাপ ধারণা মানুষের। একটা ভবনের প্লান নিতে নাকি দুই বছর ঘুরতে হয়। কেন এমন হয়রানি হতে হবে? জনবান্ধব সিডিএ গড়ে তুলতে কেউ যদি অসহযোগিতা করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আজকের এই সমন্বয় সভার আলোকে আমরা একটা পথনকশা তৈরি করব। শহরকে নান্দরিক, সবুজ, পরিকল্পিত , টেকসই রুপ দিতে আমি কাজ করে যাব। সভায় সিডিএ’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

Tags :

সর্বশেষ