রাজনীতি করতে গিয়ে আত্মীয়স্বজনের কাছে হাসির পাত্র হয়েছি। আমার এমন অনেক আত্মীয়স্বজন ছিলো যাদের সাথে বছরের পর বছর যোগাযোগ ছিলো না। কোন কথা হতো না। আমিও আত্মীয়স্বজনের কোন বিয়ে বা প্রোগ্রামেও যেতাম না। খুব আনইজি লাগতো।
রাজনীতি করতে গিয়ে প্রতিবেশী ও সমাজের কাছেও আলাদা হয়ে গেছিলাম। চট্টগ্রাম শহরে পড়ে থাকতাম দিনের পর দিন৷ মাসে নয় মাসে সুযোগ পেলে একবার সন্দ্বীপ যেতাম, তাও কারো সাথে দেখা হতো না, কথা হতো না। প্রয়োজনীয় কাজ সেরে চলে আসতাম। অনেকে আবার যোগাযোগও করতো না। বিশেষ করে আওয়ামী প্রতিবেশী বাঁকা চোখে তাকাতো। আমাদের মিছিল মিটিংয়ের ছবি দেখে হাসাহাসি করতো।
রাজনীতি করতে গিয়ে মা-বাবা, ভাই-বোন ও স্ত্রীর হক নষ্ট করেছি। সময়ে পড়ালেখা শেষ করতে পারিনি, ভালো ছাত্র ছিলাম না বলে, যখন পড়ালেখা শেষ হলো তখন চাকরি করার সুযোগ হারিয়ে ফেলেছি। রাজনীতির ভূত খুবই খারাপ জিনিস। এই ভূতে যারে পাইছে তার সংসার, পরিবার দোজখে গেছে।
রাজনীতির রং যে রংধনুর সাত রংয়ের মত জানা ছিলো না। এই বহু রং এ টিকে থাকার জন্য কত অভিনয় করতে হয়। অভিনয় করতে করতে কত নাটক সিনেমা শেষ হয়ে যায় তবুও চরিত্রের শেষ নাই। প্রত্যেক নাটকে আলাদা আলাদা চরিত্রে উপস্থিত হতে হয়। বহুরুপী চরিত্রে নিজের জীবন যৌবনের সাথে নীতি নৈতিকতা পায়ের ধূলোতে মিশে যায়।
রাজনীতিতে তোষামোদি ছাড়া উপরের সিঁড়িতে উঠা যায় না। চরিত্র না পাল্টাতে পারলে মূল্যায়ন হয় না। ওয়েলিং (তৈলমর্দন) করতে না পারলে বড় কিছু হওয়া যায় না। রাজনীতিতে সুশীল মানেই গোয়ামারা সারা।
বর্তমানে অনেক ছাত্রনেতাদের জন্ম হয়েছে। এরা আসলে বুঝে না এদের ভবিষ্যৎ কোথায়? এ রাজনীতিতে কিছু নাই এটা আপনি যেদিন অনুধাবন করতে পারবেন সেদিন আপনি পড়ালেখা করে নিজের এইম (লক্ষ্য) ঠিক করতে পারবেন।
পড়ালেখা করুন, এইম ঠিক করুন। পরিবার সমাজের জন্য কিছু করতে চাইলে পড়ালেখা করতে হবে। তবে রাজনীতিতে না আসায় ভালো। রাজনৈতিক নেতাদের যে দাম, দেখে মনে হচ্ছে এরাই সব এখানে। সব মূল্যায়ন আসলে তা না। এই দাম বা মূল্য সাময়িক। কিন্তু পড়ালেখা করে কিছু একটা হন, সেই দাম অনন্ত জীবন এমনকি মরার পরও টিকে থাকবে।
জীবনেতো পাপ করেছি রাজনীতি করে।
বছরের পর বছর টিকে থাকার লড়াইয়ে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি।
লেখক: শাওন উদ্দিন রকি
যুগ্ম আহ্বায়ক, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবকদল
সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক, মহানগর ছাত্রদল