আজ ২০ নভেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৬১তম জন্মদিন। ১৯৬৫ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় সন্তান তিনি।
দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও দেশের রাজনীতি, দল এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তারেক রহমানের সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি বাংলাদেশের জনগণের কাছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে তার কৌশলগত নির্দেশনা এবং সংগঠনের পুনর্গঠনে দক্ষতার কারণে দলের ভেতরে ও বাইরে তার গ্রহণযোগ্যতা ক্রমেই বেড়েছে।
প্রবাসে থেকেও রাজনৈতিক নেতৃত্ব
১/১১ পরবর্তী সময়ের নিপীড়ন ও দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে লন্ডনে অবস্থান নিলেও বাংলাদেশে যেকোনো সংকট মুহূর্তে ভার্চুয়ালি দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন তিনি। গত দুই বছর তার নেতৃত্বে তৃণমূলে নতুন উদ্দীপনা ফিরে আসে এবং আন্দোলন-মাঠে বিএনপি শক্তিশালী উপস্থিতি দেখায়।
গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতা আন্দোলনের সময় তার দিকনির্দেশনায় দলীয় নেতাকর্মীরা সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামেন। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগ এবং প্রশাসনিক শূন্যতার মুহূর্তে তিনি পাড়া-মহল্লায় নিরাপত্তা পাহারা গঠনসহ সংগঠিত অবস্থান বজায় রাখতে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেন। বন্যা পরিস্থিতি, দুর্গাপূজা এবং বিভিন্ন দুর্যোগেও তিনি তৃণমূলকে সক্রিয় রাখেন।
জন্মদিনে কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়
তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে এবারও কোনো অনুষ্ঠান না করার নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে—কেক কাটা, পোস্টার, ব্যানার কিংবা আলোচনা সভাসহ কোনো ধরনের উদযাপন থেকে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা থেকে শুরু করে সারাদেশের সব ইউনিটকে এ নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠন পরিচালনায় ব্যতিক্রমী মনোযোগ
২০১৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে দল পরিচালনার দায়িত্ব শক্ত হাতে ধরে আছেন তারেক রহমান। লন্ডন থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৮ ঘণ্টা কাজ করে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছেন তিনি। তার উদ্যোগে সংগঠন আজ আরও সংগঠিত, শক্তিশালী এবং গণভিত্তিসম্পন্ন অবস্থানে পৌঁছেছে।
পারিবারিক ও শিক্ষাজীবন
মাত্র ১৫ বছর বয়সে পিতৃহারা হলেও সে সময় থেকেই রাজনৈতিক পরিবেশে বড় হয়েছেন তিনি। ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল থেকে মাধ্যমিক, বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলবি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়ন সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্সে ভর্তি হন এবং শিক্ষাজীবন শেষে ব্যবসায় ক্যারিয়ার শুরু করেন।
১৯৯৪ সালে তিনি রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের মেয়ে ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের একমাত্র কন্যা জায়মা রহমান বর্তমানে ব্যারিস্টার।
রাজনৈতিক পথচলা
বাবার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল বিএনপির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা কৈশোর থেকেই। ১৯৮৮ সালে বগুড়া জেলার গাবতলী থানা বিএনপির সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলেও এর আগেই তিনি ছাত্র ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের ক্ষেত্রে তার রাজনৈতিক পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২০০২ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। খালেদা জিয়ার কারাবরণের পর থেকে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।