চট্টগ্রামে রেকর্ড বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে দলীয় নেতাকর্মীদের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। একই সাথে ভারী বর্ষণে পাঁচলাইশ থানা এলাকায় দেয়াল ধসে একজনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে তিনি নগরবাসীকে পাহাড় ও ঝুঁকিপূর্ণ দেয়ালের আশপাশ এড়িয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে চট্টগ্রামবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম আমাদের প্রাণের শহর। এই শহরের মানুষ আমাদের পরিবার। মানুষের আস্থা ও ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।” তিনি জাতীয়তাবাদী দলের সকল স্তরের নেতা-কর্মী, ভাই ও বন্ধুদের নিজ নিজ এলাকায় যেকোনো প্রয়োজনে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার এবং মানবিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
সাঈদ আল নোমান জানান, গত দুই-তিন দিনের টানা বর্ষণে নগরবাসীর চরম দুর্ভোগের বিষয়টি তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করছেন। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা একদিনে সমাধান সম্ভব না হলেও চিরতরে নিরসন করা অসম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, “মহান জাতীয় সংসদে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার বিষয়টি উত্থাপনের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে এবং নির্দেশনায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক), সিডিএ এবং ওয়াসার সমন্বয়ে স্থায়ী নিরসনে অনেকগুলো প্রকল্প এখন বাস্তবায়নের পথে।”
শহরকে পরিপূর্ণ বাসযোগ্য ও জলাবদ্ধতামুক্ত রাখতে শুধু মেগা প্রকল্পই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে এমপি সাঈদ আল নোমান নাগরিকদের সচেতনতার ওপর জোর দেন। তিনি সবাইকে ৫টি বিশেষ অঙ্গীকার করার আহ্বান জানান: ১। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলা। ২। নিজ নিজ বাসা বা আশেপাশেরপরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা। ৩। খাল, নালা ও ড্রেনে প্লাস্টিক, পলিথিন কিংবা কোনো ধরনের বর্জ্য না ফেলা। ৪। নিজ নিজ বাড়ির পাশের নালাকে সর্বদা পরিষ্কার রাখা। ৫। নালা, ড্রেন কিংবা খালের জায়গা দখল করে কোনো স্থাপনা তৈরি না করা।
মানবিক এই সংসদ সদস্য দৃঢ়তার সাথে বলেন, “আমরা সচেতন না হলে সংস্থাগুলো যতই মেগা প্রকল্প হাতে নিক না কেন, জলাবদ্ধতা সম্পূর্ণরূপে নিরসন করা যাবে না। আমাদের প্রাণের শহরকে দেশের মাঝে মডেল নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার এবং নাগরিকের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই হবে সর্বোত্তম পন্থা।”