বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ড. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা আগেও বলেছি নির্বাচনের দিন গণভোট করার সিদ্ধান্তকে আমরা ভালো চোখে দেখছি না। নির্বাচনের দিন গণভোট হলে নির্বাচনের জেনোসাইড হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
শনিবার বিকালে চট্টগ্রামের প্যারেড মাঠে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় পিআর সম্পর্কে তিনি বলেন, পিআর নিয়ে আমরা এখনও অনঢ় আছি। আমাদের এই দাবি জনগণের স্বার্থেই, ইনশাল্লাহ জামায়াত ক্ষমতায় গেলে পিআর বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত নয় জনগণের বিজয় নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। চট্টগ্রামেও এসেছি জনগণের বিজয় নিশ্চিত করতে, জনগণের বিজয়ের বার্তা দিতে। জামায়াতের কোন প্রার্থীর বিজয় হোক সেই কথা বলতে আসেনি, বলছিও না।
তিনি আরও বলেন, আমাদের এখন পজেটিভ এজেন্ডা। আমরা কি করব, জাতির জন্য কি ভাবছি সেগুলো করতে করতে আমাদের সময় চলে যাচ্ছে। কারো খোঁচার জবাব দেওয়ার কোন সময় আমাদের নেই।
নির্বাচনের লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই, কিন্তু এই নির্বাচন হতে হবে। এই নির্বাচন পেছানো যাবে না। কোন সংকট সৃষ্টি করতে আমরা চাই না। ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে ইনশাল্লাহ।
জামায়াতের আমীর আরও বলেন, আমাদের যুদ্ধ হবে এই দেশকে সত্যিকার মুক্তির স্বাধ এনে দেওয়া, দুর্নীতিমুক্ত করা। আমাদের এই যুদ্ধ আপোষহীন। এই যুদ্ধে আমরা এক আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে মাথা নত করব না। আমরা আমাদের গন্তব্যে না পৌঁছা পর্যন্ত আমরা ইনশাল্লাহ থামব না, কোন কিছু আমাদের থামাকে পারবে না। মিডিয়া জাতির দর্পণ, আপনারা বিবেককে শাণিত করবেন। এই যুদ্ধে আপনারাও সামিল হবেন। কারণ দেশ আমাদের সবার। কারো কাছে, কোন পরিবার, দলের কাছে আমরা আমাদের দেশের রাজনীতি ইজারা দেব না। এদেশের মালিক এদেশের জনগণ। তাদের হাতে আমরা ক্ষমতা দিতে চাই।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতির জট যদি উপড়ে ফেলা যায় তাহলে সমাজের উন্নয়নের অন্যান্য দ্বারগুলোও খুলে যাবে। অবশ্য আমরা ঘোষণা করেছি আমাদের টপ প্রায়োরিটি হবে ভাঙাচোড়া, কোমরভাঙা, বিধ্বস্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে তুলে ধরা। এই শিক্ষা হবে নৈতিকতা ও সমস্ত আধুনিকতার সরঞ্জামযুক্ত। শিক্ষিত মানুষগুলো মানুষের বন্ধু হবে। এখন যেভাবে শত্রু হচ্ছে সেভাবে হবে না। বরং মানুষের দরদী বন্ধু হবে। একটা ক্যারিং সোসাইটি আমরা বিল্ডআপ করতে পারব। এই স্বপ্নের অভিযাত্রী হিসেবে আমরা আপনাদেরকে পাশে চাই।
তিনি আরও বলেন, বারবার এই জাতির সামনে সুযোগ এসেছে। কিন্তু সেই আবার সুযোগ চলেও গেছে। যাদের সুযোগের উত্তম ব্যবহার করার কথা ছিল, তারা সেটা না করে অপব্যবহার করেছে। আল্লাহ আমাদের বহুবিধ সম্পদও দান করেছে। এই সম্পদের একটা ক্ষেত্র চট্টগ্রামও। কিছু লোক জনগণের সম্পদকে লুণ্ঠন করে নিজেদের পকেট ভারী করেছে। তাদের কপাল-কিসমত বড় করেছে। কিন্তু জনগণ কার্যত সেরকম কোন উন্নয়নের মুখ দেখেনি। শিক্ষা আমাদের মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। ইলেকট্রো মেকানিক্যাল ইন্ডাস্টি নতুন করে উঠে দাঁড়াচ্ছে না, এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিতে কোন সাড়া নেই, আমাদের মৎস্য ও পশু সম্পদে ব্যাপক প্রয়োজন থাকার স্বত্তেও উৎপাদন খুবই কম। ভিশনারী, আন্তরিক, দেশপ্রেমিক, সৎ নেতৃত্বের অভাবে এসব হয়েছে। এই চারটা উপাদান না থাকায় দেশ বারবার মুখ থুবড়ে পড়েছে। সুযোগ এসেছে, সুযোগ হারিয়ে গেছে। তাই আমরা ২৪ এর এই সুযোগের ১৬ আনা কাজে লাগাতে চাই। কোন দলের জন্য নয়, আপামর জনগণের জন্য, গোটা জাতির জন্য, হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধদের, উপজাতিদের জন্য, নারী ও শিশুদের জন্য।
চট্টগ্রাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি বীর চট্টলা। চট্টগ্রাম হলো ইসলামের গেইওয়ে। একইসাথে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাও হয়েছে এই এলাকায়। সিপাহী যুদ্ধের সময় এখানকার একটি গৌরবোজ্জল ভূমিকা ছিল।
উল্লেখ্য, তিনি চট্টগ্রামের ফিরোজশাহ কলোনী এলাকার বড় মাদ্রাসায় একটি মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন।