সলিমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও বহিস্কৃত জেলা যুবদল নেতা রোকন উদ্দিন মেম্বারের বাড়ি ঘেরাও করার হুমকি দিয়েছেন আরেক সন্ত্রাসী মো. ইয়াছিন। গত শুক্রবার ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির প্রতিবাদে জঙ্গল সলিমপুরের খেঁজুরতলায় আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এই হুমকি দেন।
এসময় ইয়াছিন প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা রোকনকে গ্রেপ্তার না করলে আমরাই প্রতিরোধ গড়ে তুলব। জঙ্গল সলিমপুরের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে অবিলম্বে। আমরা রোকনের বাড়ি ঘেরাও করব, কখন করব, কিভাবে করব কাউকে বলব না। তিনি আরও বলেন, রোকন তার বাহিনী নিয়ে আলী নগরে অস্ত্রসহ প্রবেশ করেছে। তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে। আমি জমি ক্রয় করেছি, অন্যায় হয়নি। আর আপনি বিক্রি করেছেন সেটা কোন অন্যায় নয়। আপনারা বলছেন, আমাদেরকে নাগরিক সেবা দেবেন না, আমরা বলব আমরা কোন যুদ্ধ করব না। আমরা আইনী লড়াই করব, আইনের কাছে জানতে চাইব। কেন আমরা নাগরিক অধিকার পাব না। আমিতো রোহিঙ্গা নয়। আমি এই দেশের নাগরিক।
ওই সমাবেশে কয়েক হাজার নারী ও পুরুষ অংশ নেন। পরে বিশাল র্যালী করে জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগরে শোডাউনি করে ইয়াছিন। এদিকে রোকন উদ্দিনকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। সম্প্রতি তার একটি অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়েছে। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, আমি ৬০ লাখ টাকার অস্ত্র ক্রয় করেছি। যেকোন মূল্যে হলেও আমি জঙ্গল সলিমপুর নিয়ন্ত্রণ করব। তবে দল থেকে বহিস্কারের পর রোকন উদ্দিনের কোন বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে বা কোন গণমাধ্যমে আসেনি। যদিও তার পক্ষে মানববন্ধন করেছে দলের একাংশ। এখানে কেউ আমার সাথে লেঁয়াজো করা ছাড়া এক মিনিটও টিকতে পারবে না। এমতাবস্থায় স্থানীয়দের প্রশ্ন শান্তি কি ফিরবে জঙ্গল সলিমপুরে?
সলিমপুরের কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, রোকন উদ্দিন মেম্বার ষড়যন্ত্রের শিকার। তিনি বহু মামলা-হমালায় নির্যাতিত, নিস্পেশিত একজন ত্যাগী নেতা। টানা কয়েক বছর জেলে ছিলেন ফ্যাসিবাদী হাসিনার আমলে। তার বহিস্কার প্রত্যাহার করতে হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি জঙ্গল সলিমপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৫ আগস্টের পর থেকে এই এলাকায় অন্তত ছয়জন খুন হয়েছেন আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। এছাড়াও ২ সাংবাদিককে মেরে রক্তাক্ত করে ইয়াছিনের বাহিনী। আর রোকনের বাহিনী দলবলসহ অস্ত্র নিয়ে এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিতে গেলে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়।