সীতাকুণ্ডের আমি-ডামি নির্বাচনের এমপি এস.এম আল মামুনের উপদেষ্টা লিটন চৌধুরীকে সীতাকুণ্ড থানা থেকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। ২০১৭ সালে সীতাকুণ্ডে জঙ্গী নাটক সাজিয়ে নৃশংসভাবে নারী ও শিশু হত্যা পরিকল্পনার হোতা হিসেবেও লিটনের নাম উঠে আসে। বর্তমানে তিনি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সীতাকুণ্ড পৌরসভার নেতা বলেও জানা গেছে।
এছাড়া ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের ২৬ জন নেতা-কর্মীর খুনি ওসি ইফতেখারের সহযোগী হিসেবেও কাজ করেছিলেন লিটন কুমার চৌধুরী। স্থানীয় যুবকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগও তুলেছেন এবং এ সংক্রান্ত কথোপকথনের একাধিক স্ক্রিনশট ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে।
জানা যায়, রবিবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় লিটন ও তার সহযোগীরা সীতাকুণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অগ্নি সংযোগের পরিকল্পনা করছে এমন সংবাদ পেয়ে ছাত্র সমন্বয়কেরা কলেজ রোডের নুর টাওয়ার এলাকায় ছুটে যান। সমন্বয়কদের উপস্থিতি টের পেয়ে সহযোগীরা পালিয়ে গেলেও লিটন চৌধুরী ধরা পড়ে। তাকে ধরে সীতাকুণ্ড থানায় সোপর্দ করা হলেও ওসি মজিবুর রহমানের সম্মতিতে তার সহযোগী ফোরকান আবু, ফারুক ও টুটুল তাকে হাসপাতালে চিকিৎসার কথা বলে নিয়ে যায়। এসময় ওসির উপস্থিতিতে সমন্বয়কদের উদ্দেশে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে লিটনের সহযোগীরা এবং একজন একজন করে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেয় তারা।
ওসি মুজিবুর রহমান জানান, লিটন চৌধুরীকে হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে থানায় আনার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাকে থানায় আনা হয়নি। লিটন ও তার সহযোগীদের অগ্নি নাশকতার পরিকল্পনার বিষয়েও তিনি অবগত নন বলে জানান।
এদিকে লিটন চৌধুরীকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করার সংবাদে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ফ্যাসিবাদের হাতে নির্যাতিত ছাত্র-জনতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট ও কমেন্টে তারা লিটনের অপকর্মের কথা তুলে ধরেন এবং ছাত্র-সমন্বয়কদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
সীতাকুণ্ডের বাসিন্দা আইমান সাজ্জাদ লিখেছেন, “ফ্যাসিবাদের দালাল, ফ্যাসিস্ট এমপি মামুনের নির্বাচন কমিটির ২৩ নম্বর সদস্য, সীতাকুণ্ডের জঙ্গী নাটকের কারিগর সমকামী লিটনকে আইনের আওতায় আনা হোক।”
শিবিরের সাবেক নেতা এইচ এম আশরাফ উদ্দিন মন্তব্য করেন, “লিটন চৌধুরী র্যাব, সোয়াত, যৌথবাহিনীর গাড়িতে করে আমাদের ভাইদের ধরিয়ে দিত। জঙ্গী নাটকের স্ক্রিপ্ট লিখে দিত।”
সাবেক ছাত্র নেতা ও প্রবাসী নুরুল হুদা লেখেন, “এরা জঙ্গী নাটক করে কতজনকে হত্যা করেছে জানেন?”
শেখ নাজিম উদ্দিন সাটু লিখেছেন, “এই বেটা আওয়ামী লীগ ছিল।”
চট্টগ্রাম আদালতের এপিপি হোসাইন মোহাম্মদ আশ্রাফ লিখেছেন, “এই লিটনসহ কিছু সাংঘাতিক আওয়ামী লীগকে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে।”
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্র শিবিরের সদ্য বিদায়ী সভাপতি সাজিদ চৌধুরী বলেন, “লিটনের জন্য স্বৈরাচার ক্ষেপে ওঠেছে দেখলাম। প্রেস ক্লাবের একাংশকেও দেখলাম একইভাবে ক্ষিপ্ত। সাবধান হয়ে যান, স্বৈরাচার আর আপনারা কি একই সূত্রে গাঁথা?”
এ বিষয়ে লিটন কুমার চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমাকে আওয়ামী লীগ ও ইসকনের নেতা বলে আমাকে আঘাত করেছে।”
ছাত্র সমন্বয়ক মো. আসাদ জানান, “অগ্নি নাশকতার পরিকল্পনা করছে আওয়ামী লীগের নেতারা এমন সংবাদে আমরা ছুটে যাই কলেজ রোড এলাকায়। সেখানে আওয়ামী এমপির উপদেষ্টা ও জঙ্গী নাটকের হোতা লিটনকে পেয়ে তাকে পুলিশে সোপর্দ করি। থানায় ওসি মুজিবর রহমানের সামনে থেকে লিটনের সহযোগী ফোরকান আবু, ফারুক ও টুটুল চিকিৎসার কথা বলে নিয়ে যান। পরে শুনেছি লিটনকে আর পুলিশে ফেরত দেওয়া হয়নি।”
সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক ও দৈনিক আমার দেশ প্রতিনিধি জহিরুল ইসলাম বলেন, “দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার কোন সুযোগ নেই। যে রূপেই তারা ফিরে আসার চেষ্টা করুক ছাত্র-জনতা তাদের রুখে দেবে।”
উল্লেখ্য,লিটনের বিরুদ্ধে এসিড দগ্ধ নারীর অর্থ আত্মসাৎের অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে তার চাকরী চলে যায়। সম্প্রতি আরও একটি প্রতিষ্ঠান নানা অনিয়মের কারণে তাকে চাকরীচ্যুত করে। এছাড়াও তরুণ সুদর্শন ছেলেদের আপত্তিকর মেসেজ দেওয়ার অভিযোগ লিটনের বিরুদ্ধে বহু পুরোনো। সূত্র জানিয়েছে, লিটন চৌধুরী বিশেষ রোগে (বিকৃত যৌনাচার) আক্রান্ত। নারীদের প্রতি তার কোন আকর্ষণ নেই।