একটি ফাইনাল ম্যাচ যেভাবে হওয়া উচিত—নাটকীয়তা, টানটান উত্তেজনা, আর রোমাঞ্চে ঠাসা—তার সবটুকুই ছিল এই ম্যাচে। কিন্তু মাঠের যুদ্ধ শেষে ট্রফিটা নিজেদের করে নিল স্পেনই। গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধার করল স্প্যানিশরা। নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই গ্যালারির লাল সাগরে যেন আনন্দের সুনামি বয়ে যায়, উল্লাসে মেতে ওঠে পুরো লা রোজা শিবির। অন্যদিকে, আকাশী-নীল শিবিরে তখন কেবলই বিষাদের ছায়া; টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বজয়ের স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় ডাগআউটে কান্নায় ভেঙে পড়েন লিওনেল মেসিরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই পরাশক্তির আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে লড়াই জমে উঠেছিল। তবে প্রথমার্ধে কোনো দলই জালের দেখা পায়নি, গোলশূন্য সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় তারা। দ্বিতীয়ার্ধে গোল পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। তবে সময়ের সাথে সাথে স্প্যানিশদের আক্রমণের তীব্রতা এতটাই বাড়ে যে, রীতিমতো কোণঠাসা হয়ে পড়ে আলবিসেলেস্তেরা। স্পেনের সেই ঝোড়ো আক্রমণ সামলাতে গিয়েই ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে (৯০+৩ মিনিটে) দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় আর্জেন্টিনার তারকা এনজো ফার্নান্দেজকে। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া আর্জেন্টিনা এরপরও রক্ষণ সামলে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ম্যাচ গোলশূন্য রাখতে সফল হয়।
খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে নিকো উইলিয়ামসের একটি দারুণ শট জালে জড়ালেও ফাউলের কারণে সেটি বাতিল হয়ে যায়। তবে ম্যাচের ১০৬ মিনিটে আর স্প্যানিশদের রুখে রাখা যায়নি। নিখুঁত ও ক্ষিপ্রগতির শটে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ ভেঙে বল জালে জড়ান ফেরান তোরেস। এই এক গোলের লিড আর শোধ করতে পারেনি লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিরা। তোরেসের করা ওই একমাত্র গোলেই নিশ্চিত হয় স্পেনের জয়। ২০১০ সালে প্রথম বিশ্বজয়ের দীর্ঘ ১৬ বছর পর এটি স্প্যানিশদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা।
এই ঐতিহাসিক জয়ের দিনে বিশ্বফুটবল দেখল এক নতুন নক্ষত্রের উদয়। মাত্র ১৯ বছর বয়সে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এসেই শিরোপার স্বাদ নিলেন স্প্যানিশ ওয়ান্ডার কিড লামিনে ইয়ামাল। এর আগে ২০২৪ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা এই তরুণ তুর্কি এবার বিশ্বমঞ্চেও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করলেন। অন্যদিকে, ট্রফি ধরে রাখার মিশন ব্যর্থ হওয়ায় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যদের বিদায় নিতে হলো অশ্রুসিক্ত চোখে।