ডেস্ক রিপোর্ট:
সন্দ্বীপের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও ঘাট সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য রুখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেন। তাঁর সময়োচিত ও দৃঢ় সিদ্ধান্তে সরকার নির্ধারিত ২৬০ টাকা স্পিডবোট ভাড়া কার্যকর হয়েছে, যা ভেস্তে দিয়েছে বিভিন্ন পক্ষের সম্মিলিত কুট কৌশল। প্রশাসনের এই সাফল্যে সন্দ্বীপের সাধারণ মানুষ ও নেটিজেনদের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার।
গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামের কুমিরা-গুপ্তছড়া রুটে সরকার নির্ধারিত ২৬০ টাকা ভাড়ায় লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই স্পিডবোট চলাচল বন্ধ করে দেয় মালিক সমিতি। গেজেট জারির পরও যাত্রী পারাপার বন্ধ রাখায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আজ বুধবার দুপুরে গুপ্তছড়া ঘাটে সশরীরে উপস্থিত হন ইউএনও আমজাদ হোসেন। তিনি স্পিডবোট মালিক সমিতি ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সাথে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জন-হয়রানি তৈরি করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর এই অনমনীয় অবস্থানের মুখে মালিক সমিতি সরকার নির্ধারিত ভাড়াতেই বোট চালাতে রাজি হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেন এক বার্তায় বলেন “আমি যোগদানের পরই স্পিডবোটে যাতায়াত ভাড়া নিয়ে চলমান সমস্যাটি আমার নজরে এসেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা শেষে সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় আজ থেকেই বোট চালানোর নির্দেশনা দিয়েছি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে জন-হয়রানি তৈরি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্পিডবোট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান আরকে এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জগলুল হোসেন নয়ন জানান “বিআইডব্লিউটিএর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুরোধে আগামী এক সপ্তাহের জন্য আমরা ২৬০ টাকা ভাড়ায় সেবা প্রদান করব। তবে বর্তমান খরচ অনুযায়ী এই ভাড়ায় কার্যক্রম চালানো কঠিন। এক সপ্তাহ পর কী হবে তা পরিস্থিতি বুঝে জানানো হবে।”
বর্তমানে কুমিরা-গুপ্তছড়া উভয় প্রান্তেই ২৬০ টাকা ভাড়ায় যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক রয়েছে। সাধারণ যাত্রীরা প্রশাসনের এই ত্বরিত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সন্দ্বীপের সচেতন মহল।