চট্টগ্রাম বুলেটিন

এনসিপিকে দিনে বুঝানোর পরও রাতে বিক্ষোভ, দুঃখজনক: চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ‘এনসিপি নেতৃবৃন্দের সাথে দিনের বেলা অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠক এবং দীর্ঘ আলোচনার পরও রাতের আঁধারে আমার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। আমি জুলাইয়ের কোন গ্রাফিতি মোছা দূর থাক এ ধরণের নির্দেশ দেওয়ারও প্রশ্ন আসেনা। চসিকের বিভাগ বা শাখাও এটা করেনি।

গতকাল রাতে চসিকের সামনে বিক্ষোভে এসে তিনি এসব কথা বলেন৷ মেয়র বলেন, আমি নিজে জুলাইয়ের অনেক গ্রাফিতি করেছিলাম। ছেলেদের টাকা দিয়েছি। আমার অর্থায়নে সেগুলো হয়েছে। রং থেকে শুরু করে সব দিয়েছি। জুলাইয়ের গ্রাফিতি নতুন করে অঙ্কন করতে চেয়েছিলাম কারণ সেগুলো পোস্টারে ঢেকে পড়েছিল। রোববার দিনে এনসিপির নেতাকর্মীরা আমার কাছে এসেছিল। আমি তাদেরকে বুঝিয়ে বলেছিলাম। এরপরও আরিফ মঈনুদ্দিন বিতর্কিত এনসিপি নেতা সে কর্মসূচীটা দিয়ে আমাকে বিতর্কের মুখে ফেলতে চাইছে।

শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, আমার কাছে এসব মায়াকান্না করবেন না। আমি জুলাইয়ের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। ওয়াসিম আকরাম আমার অনুসারী। সে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গিয়ে সেখান থেকে আমাকে ছবি তুলে পাঠাতো হোয়াটসঅ্যাপে। আমার ১৬টা গাড়ি পোড়ানো হয়, বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। মোটরসাইকেলে করে আমি হাসপাতালে যাই ওয়াসিমকে দেখতে। কাজেই আমি জুলাই যোদ্ধা এবং জুলাইকে ধারণ করি। এ ধরণের কর্মসূচী দিইনি আমি। সেটা বিবৃতিতে জানানোর পরও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমার বিরু বিক্ষোভ হয়েছে।

এদিকে গতকাল রাতে জুলাই গ্রাফিতি মুছে ফেলার প্রতিবাদে চসিকের সামনে বিক্ষোভ করে এনসিপির কয়েকশো নেতাকর্মী। এসময় তারা সেখানে “জুলাইয়ের গাদ্দার, ডা. শাহাদাত ডাক্তার”সহ বিভিন্ন স্লোগান লিখেন। পরে রাত ১০টার দিকে সেখানে বিএনপি নেতাকর্মীরা জড়ো হয়। এসময় উভয়পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান করে। এসময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

একপর্যায়ে এনসিপি নেতাদের সরিয়ে দেওয়া হয়।  পরে। ছাত্রদল ও বিএনপি কর্মীরা এনসিপির লেখা গ্রাফিতিগুলো মুছে নতুন করে লিখে ” জুলাই কারো বাপের না”।  পরে সোমবার সিএমপি জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত সকল মিছিল, মিটিং ও জনসভা নিষিদ্ধ করে।

Tags :

সর্বশেষ