চট্টগ্রাম নগরীর কসমোপলিটন আবাসিক এলাকায় কেএসআরএম’র রড়ের ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত আব্দুল মান্নান নামে ৬১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তবে অভিযোগ ওঠেছে, ন্যুনতম সহানুভূমি দূরে থাকা কেএসআরএম কর্র্তপক্ষ কোন ধরণের ক্ষতিপূরণও দেয়নি। এমনকি পোষ্টমর্টেম ছাড়াই বৃদ্ধের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। পুরো প্রক্রিয়ার পুলিশের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের। যদিও পুলিশ বিষয়টি অস্বীকার করে জানিয়েছে, কোন সড়ক দূর্ঘটনায় পোষ্টমর্টেম বাধ্যতামূলক নয়। এ ঘটনায় একজনকে আসামি করে সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
বৃহস্পতিবার বিকেলে নগররীর পাঁচলাইশ থানাধীন কসমোপলিটন আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পাঁচলাইশ থানার ওসি জাহিদুল কবির বলেন, রড়ের গাড়ির ধাক্কায় একজন বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। আমরা গাড়িটি জব্দ করেছি। তবে গাড়িচালক পলাতক রয়েছেন।
নিহত আব্দুল মান্নানের পরিবারের অভিযোগ, কোন পোষ্টমর্টেম করাতে চাইলেও তারা করাতে পারেননি। গাড়িটি শিল্প গ্রুপ কেএসআরএস গ্রুপের। তবে কোন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। এমনকি প্রতিষ্ঠানটির কোন কর্মকর্তা তাদের সাথে যোগাযোগও করেনি। দূর্ঘটনার একদিন পেরিয়ে গেলেও কোন কর্মকর্তা এসে পাশে দাঁড়ায়নি। শুক্রবার অন্য মাধ্যমে প্রথমে ৩০ হাজার ও পরে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ অফার করা হয়। তারা এতে রাজি হননি।
সূত্র জানায়, আব্দুল মান্নান কসমোপলিটন আবাসিক এলাকায় একটি হাউজিং প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা প্রহরীর কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে আব্দুল মান্নান কসমোপলিটন আবাসিক এলাকার একটি চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিলেন। এসময় সেখানে পাহাড়ের উপরে একটি রড় বোঝাই ট্রাক ওঠছিল। ভার সইতে না পেরে হঠাৎ করে ট্রাকটি পেছনে আসতে শুরু করে। এতে চা দোকানের সামনে থাকা আব্দুল মান্নানকে ট্রাক এসে ধাক্কা দিলে পেটের ভিতরে রড ঢুকে যায়। পরে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক তার পেট থেকে টেনে রড বের করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, নিরাপত্তা প্রহরী মান্নান প্রথমে একটা দোকানে পান খান। এরপর তিনি সেই চায়ের দোকানে গিয়ে চা খাচ্ছিলেন। হঠাৎ করে পেছন থেকে একটি বেপরোয়া ট্রাক এসে তাকে ধাক্কা দেয়। ট্রাকটিতে থাকা বেশকিছু রড তার পেট ভেদ করে পেছনের দোকানে আঘাত করে। এরপর আমরা অনেকে মিলে রাস্তা থেকে তাকে টেনে বের করি। তারা আরও বলেন, মান্নানের রক্ত রাস্তার মধ্যে স্রোতের মতো বয়ে যায়। অত্যন্ত মর্মান্তিকভাবে তিনি মারা যান। ঘটনার দীর্ঘক্ষণ পরেও কেএসআরএম কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে আসেনি বা সহমর্মিতা জানায়নি।
নিহত আব্দুল মান্নান নোয়াখালী সদরের এওজবালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। পরিবার নোয়াখালী থাকলেও তিনি একাই চট্টগ্রামের কসমোপলিটন আবাসিক এলাকায় বসবাস করতেন। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে।
এ বিষয়ে নিহতের ছেলে মো. রাজু জানান, কোরবানীর আগেই আমাদের সংসারে দূর্ঘটনা নেমে এলো। আমার বাবা কেএসআরএম’র গাড়ির থাক্কায় মারা গেলেও কোন ক্ষতিপূরণ দেয়নি তারা। তারা মাত্র ৫০ হাজার টাকা অফার করেছিল আমাদের। অথচ আমরা লাশ নোয়াখালীতে নিতেই এর চেয়ে বেশি খরচ হবে।
নিহতের শ্যালক মামুনুর রশিদ জানান, আমরা জানতে চাই একটি জীবনের দাম মাত্র ৫০ হাজার টাকা কিনা? একটি গাড়িতে যেই পরিমাণ রড় ধারণ করে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি লোড করানো হয়েছে। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে দূর্ঘটনাটি ঘটেছে। লাশের কোন পোষ্টমর্টেম করা হয়নি। আমাদের মামলাও নিয়েছে একজন চালকের নামে। ঘটনাটি অধিকতর তদন্তের দাবি জানাই আমরা।
এ বিষয়ে কেএসআরএম’র সিইও মেহেরুল করিম বলেন, আমি বিষয়টি শুনলেও কোন মন্তব্য করতে পারছিনা। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানিনা। পরে জেনারেল ম্যানেজার (সেলস) মো. জসিম উদ্দিনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি প্রতিবেদকের প্রশ্নটি শুনে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
পাঁচলাইশ থানার ওসি জাহিদুল কবির জানান, দূর্ঘটনার জন্য পোষ্টমর্টেম রিপোর্ট বাধ্যতামূলক নয়। ক্ষতিপূরণ দিবে বিআরটিএ। তবে উপপরিদর্শক (এসআই) জানান, পোষ্টমর্টেম করার চেষ্টা করেছিলাম। শুক্রবার বিকেল চারটার পর চিকিৎসক না থাকার কারণে করা যায়নি। নিহতের পরিবার ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সই এনে পোষ্টমর্টেম ছাড়াই মরদেহ বাড়িতে নিতে রাজি হয়েছে।