চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলায় পাহাড় ধসের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি এবং মানুষের বাস্তুচ্যুতি রোধে আগাম প্রস্তুতি ও করণীয় নির্ধারণে এক বিশেষ অংশীজন কর্মশালা (শেয়ারিং ওয়ার্কশপ) সম্পন্ন হয়েছে। আজ সোমবার (১৮ মে) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী হোটেল আগ্রাবাদে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
“অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন ফর ল্যান্ডস্লাইডস কজিং ডিসপ্লেসমেন্ট কমিউনিটিজ ইন চট্টগ্রাম অ্যান্ড বান্দরবান ডিস্ট্রিক্টস” (Anticipatory Action for Landslides Causing Displacement Communities in Chattogram and Bandarban Districts) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় উন্নয়ন সংস্থা—ইপসা (YPSA), সেভ দ্য চিলড্রেন (Save the Children), আশিকা এবং রাইমস (RIMES)।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সচিব আশরাফুল আমিন। এছাড়াও কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ও বাঁশখালীর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক, সাংবাদিক এবং পরিবেশ কর্মীরা অংশ নেন।
কর্মশালায় মূলত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডে পরিচালিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। একটি তৃতীয় পক্ষের (থার্ড পার্টি) স্বাধীন জরিপ সংস্থার মাধ্যমে এই সার্ভে বা জরিপটি সম্পন্ন করা হয়েছে। গবেষণার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে পাহাড় ধস ও ভূমিধসের কবল থেকে কীভাবে জানমাল ও সম্পদ রক্ষা করা যাবে, তার একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চসিক সচিব আশরাফুল আমিন বলেন, “চট্টগ্রামের জন্য পাহাড় ধস একটি বড় দুর্যোগ। বর্ষা মৌসুমের আগেই যদি আমরা এই ধরনের বৈজ্ঞানিক গবেষণার তথ্য ও আগাম সতর্কবার্তা কাজে লাগাতে পারি, তবে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি অনেকখানি কমিয়ে আনা সম্ভব।” তিনি এই যৌথ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং চসিকের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।
আয়োজক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা জানান, বান্দরবান ও চট্টগ্রাম জেলার পাহাড় ধস প্রবণ এলাকায় বসবাসকারী ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে রক্ষায় এই প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও ফায়ার সার্ভিসের মতো জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাকে আগাম প্রস্তুতির আওতায় নিয়ে আসার মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলা আরও সহজ হবে।
উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশ নিয়ে আবহাওয়া ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার স্থায়ী টেকসই কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের তাগিদ দেন।