নানা নাটকীয়তার পর অবশেষে সাবেক মহানগর ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সাইফ প্রকাশ বার্মা সাইফুলকে হাজির করেছে পুলিশ। তাকে বায়েজিদের ৩৫ টি স্বর্ণের বার লুটের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ৷ এছাড়াও বন্দর থানাধীন পাঠাও চালক হত্যা মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে স্বর্ণ লুটের ঘটনায় মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার ও ২৯০ ভরি সোনা ও দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে সাইফুলের পরিবার পুলিশের দাবির সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তাদের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করায় সাইফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি এ ধরণের কোন কাজে জড়িত নয়৷ দীর্ঘ দিন ধরে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন তিনি।
জানা যায়, গত ১২ ও ১৩ জানুয়ারি ঢাকার গুলশানে ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার বিকালে সিএমপি হেডকোয়াটার্সে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ।
তার দাবি বায়েজিদে ৩৫টি স্বর্ণের বার দস্যুতার ঘটনায় বার্মা সাইফুল ও তার দুই সহযোগীকে একটি মোটরসাইকেলেসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ২৯০ ভরি অর্থাৎ ২৯টি বার ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও ৬টি বার উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে বন্দর থানার পাঠাও চালক ওজিয়র রহমান হত্যা মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বুধবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, গত ৪ জানুয়ারি সকাল ৫টায় নগরীর পাঁচলাইশ আতুরার ডিপো এলাকায় একটি মোটরসাইকেলে এসে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে কয়েকজন ছিনতাইকারী সবুজ দেবনাথ নামে একজনের কাছ থেকে ৩৫টি সোনার বার, ৩টি মোবাইল ও কিছু নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার পরদিন পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন সবুজ। এসময় তিনি দাবি করেন, এতে তদন্তে প্রাপ্ত আসামী মোঃ সাইফুল ইসলাম ওরফে বার্মা সাইফুলের নাম ওঠে আসে। এর আগে ঘটনায় জড়িত শিহাব উদ্দিনসহ সাতজনেক গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর গত ১২ ও ১৩ জানুয়ারি অভিযান পরিচালনা করে গুলশান থেকে সাইফুল ইসলাম ওরফে বার্মা সাইফুলকে ও চট্টগ্রামের হিলভিউ আবাসিক এলাকা থেকে মো. রিয়াদ হোসেন (২৮) ও মীর হোসেন প্রকাশ লিংকনকে (৩১) একটি মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দুজনের বিরুদ্ধেই চাঁদাবাজি, দস্যুতাসহ পাঁচটি করে মামলা আছে। তার সহযোগী শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে ৫টি প্রতারণা ও একটি দস্যুতাসহ ৬টি মামলা আছে।
সাইফুলের ভাই ও জুলাই যোদ্ধা মো. শাহীনের অভিযোগ তার ভাই স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে পা হারানো ছাত্রদল নেতা। তাদের পরিবারে দুই ভাই শাহীন ও ফাহিমসহ দুজন গেজেটেড জুলাই যোদ্ধা রয়েছে। তার ভাইকে একটি মহলের ইন্ধনে পরিকল্পিতভাবে স্বর্ণ লুটের মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তিনি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গেলে সেখানে টেনেহিচড়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ঘটনায় তার ভাই কোনভাবেই জড়িত নয়।
এদিকে গত ১১ জানুয়ারি রাতে বন্দর থানার পোর্ট মার্কেট এলাকায় অজ্ঞাতনামা আসামি পাঠাও চালক ওজিয়া রহমানকে (৩৬) ছুরিকাঘাত করে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়।বুধবার নগরীর ডবলমুরিং থানার পানওয়ালা পাড়ায় অভিযান চালিয়ে হত্যায় জড়িত মো. শহীদুল ইসলামকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে একটি ছুরি ও একটি হেলমেট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ১১ জানুয়ারি রাতে ঘটনাস্থল হালিশহরের বুইল্ল্যা কলোনী এলাকায় আসামি শহীদুল ইসলাম ইয়াবা সেবন করছিলেন। এসময় ভিকটিম পাঠাও চালক ওজিয়র রহমান তাকে দেখে মোটরসাইকেল থামিয়ে কোথায় যাবেন জিজ্ঞেস করলে শহীদুল তাকে কোথাও যাবেন না, বরং ইয়াবা খাওয়ার জন্য তাকে ৫০০ টাকা দিতে হবে বলে জানায়। এসময় ভিকটিম আসামিকে ধাক্কা দিয়ে চলে যাওয়ার সময় শহীদুল তাকে পেটে ছুরিকাঘাত করে। এতে ভিকটিমের মৃত্যু হয়। গ্রেপ্তার আসামীর বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে ৫টি মামলা রয়েছে।