জলাবদ্ধতা নিরসনে গঠিত সমন্বয় কমিটির প্রথম সভা
চট্টগ্রাম মহানগরীতে মাসে ৩০ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য সংগ্রহ করতে পারছে না সিটি করপোরেশন। এসব বর্জ্য প্রতিদিন খাল, নালা ও ড্রেনের পানিতে মিশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে। এখন থেকে গণপরিবহনের কোন যাত্রী ও চালক প্লাস্টিকের বোতল ও প্যাকেট বাইরে ফেললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসাথে ভবনগুলো থেকে খালে আবর্জনা ফেললেও শাস্তির আওতায় আনা হবে। প্রতিদিন ১ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই চসিক শতভাগ বর্জ্য সংগ্রহে মনোযোগী হচ্ছে। গণসচেতনতা সৃষ্টিতেও সকল সংস্থা যৌথভাবে কাজ করবে।
বুধবার বিকেলে চসিকের সম্মেলন কক্ষে জলাবদ্ধতা নিরসনে গঠিত সমন্বয় কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এসব কথা বলেন। এর আগে দুপুর আড়াইটায় নগরীর সকল খাল ও নালা সারা বছর সচল রাখাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজের জন্য বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত ১৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সদস্যরা প্রথম সভায় মিলিত হন।
মেয়র বলেন, অনেকেই বলেছেন ডোর টু ডোর প্রকল্পের জন্য আমার ভোট কমে যাবে। অনেকে বলেছেন, মেয়র এই প্রকল্পের জন্য কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন। আসলে বাস্তবতা ভিন্ন। আমি মনে করি কোন নাগরিক যদি শহরকে ভালোবেসে মাসে ৬০-৭০ টাকা দিতে না পারলে তার নগরের প্রতি কোন দায়িত্ব নেই। তবে নির্বাচনের আগে এটা বন্ধ করে দিয়েছি। তবে আবারও ডোর টু ডোর প্রকল্প চালু করতে হবে। শহরকে নিজের মনে করার মানসিকতা চাইলে এটা করতে হবে। তিনি বলেন, ২২০০ মেট্রিক টন বর্জ্য প্রতিদিন আমরা সংগ্রহ করছি। অথচ প্রতিদিন নগরে ৩২০০ মেট্রিক টন বজ্র্য উৎপাদন হচ্ছে। আর ১ হাজার মেট্রিক টন খালে, নালায় চলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা গণপরিবহনে বিশেষ ঝুড়ি দিব। যেন যাত্রীরা এসব ঝুড়িতে বর্জ্য ফেলে। এতে করে তিনশো মেট্রিক টন বর্জ্য আসবে। বাকি ৭০০ মেট্রিক টন বাসা-বাড়ি থেকে আসবে।
মেয়র বলেন, সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে পে-পার্কি কার্যকর থাকবে। কেননা অনেকে রাস্তা দখল করে পার্কিং করছে। এটাকে তারা ব্যবসা হিসেবে নিয়েছে। বিদেশে পার্কিং করলে ৫ ডলার আদায় করা হয়। দেশে এসে ৫০ টাকা দিতে চাই না আমরা। এই মানসিকতা ঠিক না। হাজার হাজার কোটি টাকা আমরা ড্রেজিং করতে ব্যয় করছি। শহরকে সুন্দর রাখতে এগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।
চসিক মেয়র বলেন, নগরীরতে দুটি ময়লার ডাম্পিং স্টেশন আছে। সেগুলোতে জাপান-জাইকার অর্থায়নে ১৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দুর্গন্ধ দূর করার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। তখন ময়লা ফেললেও কোন ভোগান্তি হবে না। বর্তমানে ডাম্পিং স্টেশনের আশেপাশের অনেক স্থাপনার মানুষ ময়লার দূর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছে। মেয়র বলেন, আমরা বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদনের পথে হাঁটছি। ইতিমধ্যে কোরিয়ার একটি সংস্থা হালিশহরের ডাম্পিং স্টেশনে ফিজিবিলিটি স্টাডি করছে। তারা বর্জ্য থেকে বায়ুগ্যাস উৎপাদন করবে। আরেফিন নগরে জাইকা একটি প্রকল্প করবে কিভাবে বর্জ্যকে শক্তিকে রুপান্ত করা যায় সে বিষয়ে। তবে এগুলো সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।
জলাবদ্ধতা নিরসনে গঠিত সমন্বয় কমিটির প্রথম বৈঠকে অংশ নেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, সিডিএ’র চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের দায়িত্বে থাকা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল আলম, চসিকের সচিব আশরাফুল আমিন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল আলমসহ ওয়াসা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, বন্দরসহ বিভিন্ন বিভাগের ১৯ জন প্রতিনিধি।
ছবির ক্যাপশন: জলাবদ্ধতা নিরসনে গঠিত সমন্বয় কমিটির বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য রাখছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।