চট্টগ্রাম বুলেটিন

মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন নিয়ে বই প্রকাশ করবেন সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান

চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন ও গল্প নিয়ে গ্রন্থ প্রকাশ করতে চান বলে জানিয়েছেন। সম্প্রতি নগরীর হালিশহরে ৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা দেওয়ার সময় তিনি এই ইচ্ছার কথা জানান। এসময় তিনি প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধাকে একটি করে স্বপ্নের ডায়েরী উপহার দেন। ওই ডায়েরীতে তারা বাংলাদেশ নিয়ে অপূর্ণ স্বপ্নগুলো লিখবেন যা পরে সাঈদ আল নোমান সংগ্রহ করবেন এবং গ্রন্থ আকারে প্রকাশ করবেন৷

এদিকে সাঈদ আল নোমানের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে। নগরবাসী বলছেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তার দায় ও দরদ বলে দিচ্ছে তিনি প্রয়াত মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমানের যোগ্য উত্তরসূরী।

জানা যায়, গত ২৫ মার্চ হালিশহরের একটি কনভেনশন সেন্টারে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আলোচনাসভা ও সংবর্ধনার আয়োজন করেন এমপি সাঈদ আল নোমান। সভায় তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনেন এবং তাদের যেসব স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি সেসব জানতে চান। রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সবার হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন সাঈদ আল নোমান। সেইসাথে আকর্ষণীয় “স্বপ্নের ডায়েরি” ও উপহার দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন ও অভিজ্ঞতা সংরক্ষণে সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের এমন উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস জানাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাঈদ আল নোমান বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হলেও তাঁদের অনেক অজানা গল্প এখনও ইতিহাসের পাতায় স্থান পায়নি। তিনি মনে করেন, মুক্তিযোদ্ধারাই যদি নিজেদের অভিজ্ঞতা নিজের ভাষায় লিখে যান, তবে তা হবে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও হৃদয়স্পর্শী দলিল। সেইসাথে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের স্বপ্নের কতটুকু পূরণ হয়েছে সেগুলো এই ডায়রীতে লিখবেন, আমি এগুলো পরবর্তীতে সংরক্ষণ করে বই আকারে প্রকাশ করার ইচ্ছা পোষণ করি।

তিনি আরও জানান, এই উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ব্যক্তিগত স্মৃতিকে জাতীয় সম্পদে রূপান্তর করা। ডায়েরিতে লেখা এসব অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে গবেষণা ও ইতিহাসচর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেও মনে করেন সাঈদ আল নোমান।

সভায় বক্তারা বলেন, পাঠ্যবইয়ের সীমাবদ্ধতার বাইরে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে জীবন্তভাবে তুলে ধরতে হলে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজন। কারণ, ব্যক্তিগত স্মৃতিই ইতিহাসকে প্রাণবন্ত করে তোলে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা আরও গ্রহণযোগ্য করে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দীনের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন, প্রফেসর সিদ্দিক আহম্মেদ, এম এ সবুর, শেখ নুরুল্লাহ বাহারসহ বিভিন্ন শ্রেণির পেশার মানুষ।

 

Tags :

সর্বশেষ