সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
ইনকিলাব মঞ্চের শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর গায়েবানা জানাজাকে কেন্দ্র করে সন্দ্বীপ উপজেলা কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে উদ্ভূত পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মংচিংনু মারমাকে জানাজায় উপস্থিত জনতাকে স্থান পরিবর্তনের অনুরোধ করতে দেখা যায়। এ সময় তিনি সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবু তাহেরের নাম উল্লেখ করে রাজনৈতিক আপত্তির প্রসঙ্গ তোলেন।
ভিডিওতে ইউএনওকে বলতে শোনা যায়, দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন ফর্ম সংগ্রহ করতে এসে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবু তাহের তাকে সতর্ক করে গেছেন। ইউএনও’র ভাষ্যমতে, আবু তাহের বলেছিলেন—
“আপনি কিন্তু আমাদের কোনো প্রোগ্রামের অনুমতি দেন নাই, অথচ জানাজার অনুমতি দিচ্ছেন। এতে আপনি একপাক্ষিক হয়ে গেছেন।”
এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই উপজেলা কমপ্লেক্স মাঠে গায়েবানা জানাজার আয়োজন না করে পার্শ্ববর্তী মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজনের অনুরোধ জানানো হয় বলে ভিডিওতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এতে জানাজায় অংশ নিতে আসা ছাত্র-জনতার মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর শনিবার (২০ ডিসেম্বর) ইউএনও মংচিংনু মারমা তার অফিশিয়াল ফেসবুক আইডি থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, শহীদ ওসমান হাদীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া প্রশাসনের উদ্দেশ্য ছিল না। পূর্ববর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন উপজেলা কমপ্লেক্স মাঠে সমাবেশের অনুমতি না পাওয়ায় আজ ব্যতিক্রম হলে আইনশৃঙ্খলা ও সমতার প্রশ্নে জটিলতা তৈরি হতে পারত—এই প্রশাসনিক বাস্তবতা থেকেই বিকল্প স্থানের অনুরোধ করা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, ইউএনও’র এই বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আবু তাহের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি ইউএনও’র মন্তব্যকে বিকৃত বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদীর গায়েবানা জানাজা নিয়ে আপত্তি করার প্রশ্নই ওঠে না। জানাজা একটি ধর্মীয় ও মানবিক বিষয়, সেখানে বিএনপি বা তার পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বাধা বা আপত্তি জানানো হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ওসমান হাদীর গায়েবানা জানাজাকে ঘিরে জনতার আবেগ, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্য—সব মিলিয়ে সন্দ্বীপে প্রশাসন ও রাজনীতির মধ্যকার টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।