Skip to main content

চট্টগ্রাম বুলেটিন

২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ বিলিয়ন ডলার জিডিপি ও ১০ হাজার প্রশিক্ষক তৈরির ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা

দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে জাতীয় অর্থনীতিতে ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার জিডিপি অবদান এবং ১০ হাজার আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফায়েড প্রশিক্ষক (ট্রেইনার) তৈরির রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে ট্রেইনারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (TAB)। একই সঙ্গে দেশব্যাপী প্রশিক্ষকদের একটি সুসংগঠিত ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ট্রেইনার কনফারেন্স ২০২৬’-এ এই ঘোষণা দেওয়া হয়। ‘Skills Matter’ প্রতিপাদ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশ-বিদেশের শিক্ষাবিদ, করপোরেট নেতা, মানবসম্পদ (এইচআর) পেশাজীবী ও প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

সম্মেলনে ট্রেইনারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সম্মানিত প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. কে এম হাসান রিপন বলেন, বর্তমান করপোরেট বিশ্বে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রির চেয়ে বাস্তবভিত্তিক দক্ষতার গুরুত্ব অনেক বেশি। দেশের শিল্পখাতে বিদ্যমান দক্ষতার ঘাটতি পূরণে আধুনিক ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে ‘HRD Corporation Bangladesh’ নামে একটি কৌশলগত মডেল উপস্থাপন করেন ট্রেইনারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. মো. ইউসুফ ইফতি এবং সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম। তাদের মতে, এই মডেল বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি খাতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের জিডিপিতে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার অবদান রাখা সম্ভব হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (NSDA) নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী প্রস্তাবটির প্রশংসা করে বলেন, এটি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং বাস্তবায়নে এনএসডিএ ইতিবাচকভাবে কাজ করবে।

প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. বিধান রঞ্জন রায় (এমপি) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নেতৃত্ব, যোগাযোগ, সহমর্মিতা ও দলগত কাজের মতো সফট স্কিল উন্নয়নে ট্রেইনারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ মডিউল ব্যবহারের আহ্বান জানান। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব জমা দেওয়ারও অনুরোধ করেন তিনি।

সম্মেলনে প্রশিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ছয়টি বিশেষায়িত সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। এছাড়া মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ‘ট্রেইনারস অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’ প্রদান করা হয়।

সমাপনী বক্তব্যে ট্রেইনারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের জেনারেল সেক্রেটারি মিস লায়লা নাজনীন আগামী বছরের ‘ইন্টারন্যাশনাল ট্রেইনার কনফারেন্স ২০২৭’ আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজনের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, দেশের দক্ষতা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সরকার, করপোরেট খাত এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করবে সংগঠনটি।

Tags :

সর্বশেষ