জন্ম ও কৈশোর:
সীতাকুন্ডের দক্ষিণ ভাটিয়ারী গ্রামের সম্ভ্রান্ত মজিদ চৌধুরী পরিবারে ১৯৬৬ সনের ২০শে সেপ্টেম্বর লায়ন মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী জন্ম গ্রহণ করেন। তাহার পিতার নাম মরহুম গোলাম হোসাইন চৌধুরী, মাতাঃ মরহুমা হালিমা খাতুন। সাত ভাই, দুই বোনের মধ্যে তাহার অবস্থান ৬ষ্ঠ। সীতাকুন্ডের গ্রামের আবহেই তিনি বেড়ে উঠেছেন। তাই তিনি খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন এতদঞ্চলের মানুষের জীবনাচার, সংস্কৃতি, হাসি-কান্না, আবেগ, ভালবাসা, মমতা ও সৌহার্দ্য। সব মিলিয়ে গ্রামীণ মানুষের বহুমাত্রিক বোধ তাহার চেতনাকে শাণিত করেছে তাদের মতো করেই। তাই তিনি আজকের অবস্থানে আসার পরও একবিন্দু বিস্মৃতিপ্রবণ হয়ে উঠেননি। ফলে নিরবধি তাহার উপর বর্ষিত হচ্ছে এ উপজেলার মানুষের দোয়া, স্নেহ, ভালবাসার শুভাশিস। যা তাহার চলার পথের পাথেয় হিসেবে তাহাকে প্রেরণা জোগায় নিয়ত। মাটি ও মানুষের ভালবাসা আর গ্রামীণ জনপদের বহমান দৈনন্দিনতায় অভ্যন্ত বলেই তাকে কখনও নগর কেন্দ্রীকতার কথা ভাবাতে পারেনি।
শিক্ষা, পেশা ও কর্মজীবনঃ
মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী এফসিএ তার শিক্ষা জীবনের শুরুতে ফৌজাদার হাট কে.এম. হাই স্কুল থেকে এসএসসি, সরকারী চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচ এস সি এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাউন্টিং বিষয়ে স্নাতকত্তোর ডিগ্রী অর্জন করেন। এরপর তিনি ইন্সটিটিউট অব চাটার্ড একাউন্টেন্সি অব বাংলাদেশ এর অধীনে সি.এ এবং পরবর্তীতে এফ.সি.এ ডিগ্রী লাভ করেন। বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিক কমিশন (বিসিএস) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতকার্য হওয়ার পর তিনি ১৯৯৩ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত কবিরহাট সরকারী ডিগ্রী কলেজে অধ্যাপনা করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বনামধন্য শিল্প প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স সিমেন্ট ও রয়েল সিমেন্টে সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে এলাকার মানুষের বৃহত্তর সেবার মানসে তিনি চাকরী ছেড়ে পারিবারিক ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন।
পারিবারিক ঐতিহ্য ও অবস্থানঃ
আসলাম চৌধুরীদের পুরো পরিবারই ব্যবসার সাথে জড়িত। সীতাকুন্ডের বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে তাহাদের পরিবারের অবদান সর্বজন স্বীকৃত। তাহার শ্রদ্ধেয় বড় ভাই ইসহাক কাদের চৌধুরী একজন তুখোড় রাজনীতিবিদ ছিলেন। সীতাকুন্ডে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রসারে ইসহাক কাদের চৌধুরীর অবদান অনস্বীকার্য। ইসহাক কাদের চৌধুরী সর্বশেষ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল, চট্টগ্রাম উত্তর জেলার বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এর আগে তিনি ১৯৯১-৯৬ সালে সীতাকুন্ড উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাঃ
২০০৪ সালে জিয়া পরিষদ চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে আসলাম চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে পদার্পণ করেন। পরবর্তীতে তিনি জিয়া পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির স্ব-নির্ভর বিষয়ক সম্পাদকেরও দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনীতিতে তার কর্মকান্ড এবং সাংগঠনিক দক্ষতার ফলে ২০১০ সালে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে একই কমিটির আহবায়ক হিসেবেও তিনি সফলতার সাথে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার সাংগঠনিক দক্ষতা, একনিষ্ঠতা এবং দলের প্রতি দায়িত্ববোধের কারণে তিনি ২০০৯ সালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। আন্দোলন সংগ্রামে সাহসী এবং অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তিনি ২০১৬ সালে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মনোনীত হন। বর্তমানে তিনি দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণঃ রাজনৈতিক, সামাজিক এবং মানবিক নানা কার্যক্রম নিয়ে এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার কারণে আসলাম চৌধুরীর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। তার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার কারণে ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেভিওয়েট অনেক প্রার্থীকে বাদ দিয়ে চট্টগ্রাম-৩ সীতাকুন্ড এবং (খুলশী-পাহাড়তলী) আসনে বিএনপি তাকে মনোনয়ন দেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে কারাগারে থেকেও তিনি চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুন্ড এবং (খুলশী-পাহাড়তলী) আসনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নেন।
কারাবরণ: বিএনপির নেতৃত্বে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ, নেতৃত্বদান ও দলকে সুসংগঠিত করার কারণে আসলাম চৌধুরী বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের রোষানলের শিকার হয়ে বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় চারবার কারাবরণ করেন। ২০১২ সালের ২৪জুন প্রথম কারাবরণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার কারাগারে থাকার জীবন সংগ্রাম। প্রথম দফায় কারামুক্তির পর তিনি দ্বিতীয় দফায় ২০১৩ সালের ৬ জুন আবারও গ্রেপ্তার হন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ কর্তৃক অনুষ্ঠিত একদলীয় নির্বাচনের বর্ষপূর্তির কালো দিবসে চট্টগ্রাম উত্তর দক্ষিণ মহানগর বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারী ঐতিহাসিক ও বিশাল জনসমাবেশ শেষে তিনি তৃতীয়বারের মতো গ্রেপ্তার হন। সর্বশেষ তিনি ২০১৬ সালের ১৫ মে ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা থেকে এক ভিত্তিহীন আজগুবি মামলায় চতুর্থবারের মতো গ্রেপ্তার হন। শেষবার গ্রেপ্তার হয়ে ৮ বছর ৩মাস কারাবন্দি থাকা অবস্থায় আপন দুই বড় ভাইয়ের মৃত্যু হয়। সরকারের নির্মমতার শিকার আসলাম চৌধুরী তার আপন দুই ভাইয়ের জানাজায় অংশ নেয়ার অনুমতি থেকেও বঞ্চিত হন। কারাগারে আসলাম চৌধুরী ছিলেন বিএনপি নেতাকর্মীদের আশা ভরসার কেন্দ্রস্থল। শুধু সীতাকুন্ড নয়, চট্টগ্রামসহ সারাদেশের বিএনপি নেতাকর্মীরাই কারাগারে তার সহযোগিতা পেয়েছেন। কারাগারে তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে সরকার তাকে বাংলাদেশের বিভিন্ন কারাগারে প্রেরণ করে শারীরিক ও মানসিকভাবে কষ্ট দিয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে সরকার তাকে কেরানীগঞ্জ কাশিমপুর কারাগার, ফেনী, কুমিল্লা এবং চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করে নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে তাঁর অদম্য ইচ্ছা আর সাহসের কাছে।
সামাজিক সম্পৃক্ততাঃ
আন্তর্জাতিক সেবা সংস্থা লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল জেলা-৩১৫ বি৪ এর ২০১০-১১ সেবাবর্ষে জেলা গভরণ হিসেবে তিনি সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। মেধাবৃত্তি, শীতবস্ত্র বিতরণ, আর্থিক অনুদান, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, সেলাই মেশিন বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড তাঁকে অন্যদশজন রাজনৈতিক নেতার থেকে আলাদা করে মানবিক মানুষ তথ্য সেবকের মর্যাদায় আসীন করেছেন এতদঞ্চলের মানুষ। তাঁর সামাজিক কর্মকান্ডের ব্যপ্তি এত বিস্তৃত য্য সংক্ষিপ্ত সময়ে উপস্থাপন করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তিনি সীতাকুন্ডের বিজয় স্মরণী ডিগ্রী কলেজের গভর্নিং বডি এবং নেছারিয়া আলীয়া মাদ্রাসার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তাছাড়া আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতাল, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক হাসপাতাল, চট্টগ্রাম বোট ক্লাবসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আজীবন সদস্য। তাছাড়া তিনি সীতাকুন্ড ও চট্টগ্রাম মহানগরীর শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সাহিত্যিক, ক্রীড়া ও উন্নয়নমূলক সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রশিক্ষণ ও পুরষ্কার:
পেশাগত, ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক জীবনে তাহার অনেক অর্জন আমাদেরকে বিমোহিত করে। পেশাগত জীবনে তিনি জাপানের ইয়াকোহোমায় AOTS প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছেন। যা তাহার জীবনে বড় অর্জন বলে মনে করি। তাছাড়া ভারতের মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল লায়ন্স ক্লাবের আয়োজনে “লিডারশীপ ডেপলপমেন্ট এন্ড হিউম্যান রিসোর্স” ট্রেনিং প্রোগামে তিনি অংশ গ্রহণ করেছেন। তিনি লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল থেকে টার্গেট এচিভম্যান্ট এওয়ার্ড, মেরিট এওয়াড, বেস্ট এডভাইজার এওয়ার্ড সহ আরো বহু স্বীকৃতি বা সনদ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি ইতোমধ্যে স্থানীয় ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ভাবে সম্মানিত হয়েছেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকতা এবং সামাজিক কর্মকান্ডে অবদানের জন্য তিনি বহু পদক ও প্রশংসা অর্জন করেছেন। রপ্তানি বাণিজ্যে অবদান রাখার জন্য সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ৩৮তম ট্রেড লিডারস ক্লাবের এওয়ার্ড অর্জন।
বৈবাহিক ও সাংসারিক জীবনঃ
সন্দ্বীপ নিবাসী বাউরিয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী পরিবারের জনাব মজিবুল মাওলার কনিষ্ঠ কন্যা জামিলা নাজনীল মাওলার সাথে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাহার শ্বশুর মজিবুল মাওলা একজন খ্যাতনামা বীমাবিদ। তিনি গ্রীণ ডেল্টা ইন্সুরেন্স কোম্পানী লিঃ এর অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং মেঘনা ইন্সুরেন্স কোঃ লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। তাহার সহধর্মিনী জামিলা নাজনীল মাওলা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। সাংসারিক জীবনে তিনি এক কন্যা সন্তানের জনক।
বি:দ্র: আসলাম চৌধুরীর ব্যক্তিগত জীবন, জীবনবৃত্তান্ত থেকে সংগৃহীত