চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পাট শ্রমিকদলের সভাপতি সাঈদ আল নোমান বলেছেন, মেধাই হোক আমাদের সাংবাদিকতার মানদণ্ড। কেননা এই মেধা না থাকলে কোন প্রতিষ্ঠানের কাছে বস্তুনিষ্ঠ, সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা আশা করা যায় না৷ তখন অপ-সাংবাদিকতা ছড়িয়ে পড়ে৷ যার ভুক্তভোগী হতে হয় সবাইকে৷ তখন দলান্ধরা সাংবাদিকতায় দল ঢুকিয়ে যেকোন ব্যক্তিকে মাইনাস করতে পারে। এটি না হওয়ার জন্য দক্ষতা, যোগ্যতাতন্ত্র, মেধাই হোক পেশাদার সাংবাদিকদের মানদণ্ড।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়স্থ একটি রেস্টুরেন্টে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম আয়োজিত ইফতার মাহফিল ও নবযাত্রা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি বলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে কর্মরত সাংবাদিকদের মানোন্নয়ন ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে আমি একটি ইন্সটিটিউট গড়ে তুলতে চায়৷ যেখানে ছুটির দিনগুলোতে সাংবাদিকরা প্রশিক্ষণ নেবে এবং ভালো সাংবাদিকরা সেখানে প্রশিক্ষক হিসেবে থাকবেন৷ আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিষয়টি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। যেনতেনভাবে নয়, ভালো শিক্ষকরা পড়াবেন। সেখান থেকে ভালো সাংবাদিক বের হবে৷ কেননা সাংবাদিকতা একটি বিশেষজ্ঞতার পেশা। এই পেশাকে আরও শক্তিশালী ও সম্মানজনক করতে হলে মেধা ও পেশাদারিত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কে কোন দল করে বা কে কী করত এসব বিষয় বড় নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন। যদি আমরা পেশাদারিত্বকে প্রাধান্য দিই এবং মেধাকে মূল্যায়ন করি, তাহলে সাংবাদিকতার ক্ষেত্র আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে।”
সাঈদ আল নোমান বলেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমকর্মীদের অধিকার ও কল্যাণের বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা ও ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়েও সরকার ইতিবাচকভাবে কাজ করছে। আমিও আশা রাখি চট্টগ্রামসহ সারাদেশে সাংবাদিকদের বেতনের যেই সমস্যা ও অন্যান্য যেসব অসুবিধা রয়েছে সেগুলোর একটি ভালো সমাধান আসবে।
তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি মেধার চেয়ে বড় কিছু নেই। মেধাই একটি প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেয়। তাই সাংবাদিক সংগঠনগুলোকেও এমনভাবে কাজ করতে হবে, যেখানে যোগ্যতা ও দক্ষতা মূল্যায়ন পাবে। তা না হলে শুধু খাওয়া-দাওয়ার জন্য ইফতার মাহফিল করা আর কিছুটা ক্ষমতা দেখানো ছাড়া আর কিছু থাকবে না সেখানে।
নবগঠিত মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রামের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন সংগঠনগুলো যদি সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করে, তাহলে পুরো গণমাধ্যম অঙ্গন উপকৃত হবে। স্বচ্ছ, জবাবদিহিতামূলক, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা প্রয়োজন। এটি সবার জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। পেশাদারিত্ব না থাকলে তার কাছে কিছুই আশা করা যাবে না।
মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম এর সভাপতি মোঃ আব্দুল কাইয়ুমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সীরাত মঞ্জুরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হাসপাতালের পরিচালক ডা. আবু নাছের।
এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহেদুল করিম কচি, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহনওয়াজ, চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি কাজী আবুল মনছুর, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের প্রচার সম্পাদক ফারুক আবদুল্লাহ প্রমুখ।