Skip to main content

চট্টগ্রাম বুলেটিন

সীতাকুণ্ডে চট্টলা এক্সপ্রেসে ট্রেনে আগুন

চট্টগ্রামে ঢাকাগামী চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের পাওয়ার কারে (যেখান থেকে ট্রেনে বিদ্যুত সরবরাহ করা হয়) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটের বিএমএ গেট এলাকায় চলন্ত অবস্থায় ট্রেনটির এই পাওয়ার কারে ধোঁয়া ও আগুন দেখা যায়। পরে ট্রেন থামিয়ে যাত্রীদের জরুরি ভিত্তিতে নামিয়ে আনা হয়।

রেলওয়ে জানায়, ট্রেনটির পাওয়ার কারে আগুন লাগার পর যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য বাকিকোচগুলো আলাদা করা হয়। ঠিক কী কারণে আগুন লেগেছে সেটি তদন্ত করে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে আগুন লাগার পর ট্রেন থামার মুহূর্তে যাত্রীরা বগি থেকে নিচে নেমে ছুটোছুটি শুরু করেন। অনেকেই জানালা দিয়ে ধোঁয়া বের হতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন যাত্রী মোহাম্মদ রুহুল আমিন। তিনি বলেন,ফৌজদারহাটের দিকে আসার সময় হঠাৎ সামনের দিক থেকে পোড়া গন্ধ আসে। একটু পর দেখি ধোঁয়া পুরো বগিটা ভরতে শুরু করেছে। সবাই চিৎকার শুরু করে। ট্রেন থামতেই আমরা দৌড়ে বাইরে নেমে আসি। পরে দেখি ট্রেনের একটি বগিতে (পাওয়ার কার) দিক থেকে আগুনের শিখা উঠছে।’

আরেক যাত্রী নাসরিন আক্তার বলেন, ‘ট্রেনের ভেতরেই শিশুসহ অনেক যাত্রী ছিল। ধোঁয়ার কারণে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। আল্লাহর রহমতে বড় দুর্ঘটনা হয়নি।’

পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের ব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সবুক্তগীন জানান, ট্রেনটি সাময়িকভাবে সেখানে থামিয়ে রাখা হয়েছে। বিকল্প পাওয়ার কার আনার উদ্যোগ চলছে। ঘটনাটি তদন্তে একটি প্রযুক্তিগত কমিটি গঠন করা হবে। এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে কয়েকজন যাত্রী ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

তিনি বলেন, মূলত চট্টলা এক্সপ্রেসের যে অংশে আগুন লেগেছিল সেটি ছিল পাওয়ার কার। দ্রুত সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা আহত হওয়ার খবর নেই।

তিনি আরও বলেন,যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা পাওয়ার কারটি যাত্রীবাহী কোচ থেকে আলাদা করে দিয়েছি। যাতে আগুন অন্য বগিতে ছড়িয়ে না পড়ে। চালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দ্রুত সিদ্ধান্তই বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে সবাইকে রক্ষা করেছে।

তিনি বলেন, আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে একটি প্রযুক্তিগত কমিটি করছি। তদন্তে সঠিক কারণ বেরিয়ে আসবে। আপাতত যাত্রীদের নিরাপদে রেখে ট্রেনটি উদ্ধার ও পুনরায় চলাচল নিশ্চিত করার কাজ চলছে।

এদিকে সকালের ব্যস্ত সময়ে ট্রেনটি দ্রুতগতিেই চলছিল। সেই অবস্থায় আগুন ছড়িয়ে পড়লে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারত বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা।

Tags :

সর্বশেষ