চট্টগ্রাম বুলেটিন

পুলিশকে মাদকের খবর দিয়ে মামলার আসামি হলেন স্থানীয়রা, ধরাছোঁয়ার বাইরে মাদক কারবারিরা

ডেস্ক রিপোর্ট:

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত একটি মামলায় চরম অসংগতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার সারিকাইত ইউনিয়নে মাদক কারবারিদের ধরিয়ে দিতে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদেরই আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকার কারণে মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।

মামলার নথিপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামলার প্রধান আসামি হাসান মূলত পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছিলেন। কললিস্ট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ঘটনার ঠিক আগে মামলার বাদী এসআই নূর মোহাম্মদের সঙ্গে হাসানের একাধিকবার ফোনালাপ হয়েছে। যার সাথে একাধিকবার ফোনে কথা হলো সেই তথ্যদাতাকেই প্রধান আসামি করার এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে জানা যায়, ঘটনার দিন মাদকচক্রের হামলায় শেখ ফরিদ ও মান্না নামের দুই ব্যক্তি রক্তাক্ত হন। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আহত ফরিদ পুলিশের সাহায্য চাইলেও এএসআই আপেল মাহমুদসহ অন্য সদস্যরা নির্বিকার ছিলেন। উল্টো এই ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে এএসআই আপেল মাহমুদ হাসানের মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভিডিও ডিলিট করে দেন। এই ঘটনা থেকেই উপস্থিত জনতার সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডার সূত্রপাত হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, মাদকচক্রের হামলায় আহত ওই দুই ব্যক্তিকেও এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে ঘটনাস্থল সারিকাইত ৭ নম্বর ওয়ার্ড উল্লেখ করা হলেও তথ্য প্রমাণ বলছে ভিন্ন কথা। তথ্য প্রমাণ অনুযায়ী, বেশ কয়েকজন আসামিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে সাউথ সন্দ্বীপ কলেজ গেট এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া, পুলিশের ওপর হামলার এই স্পর্শকাতর মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে চিহ্নিত মাদক কারবারিদের পরিবারের সদস্যদের, যা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক করেছে।

এসব অসংগতির বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই নূর মোহাম্মদ ও এএসআই আপেল মাহমুদ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন হালদার জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন। মাঠ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ভুলের দায়ভার বিভাগ নেবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এজাহারের এমন স্ববিরোধী তথ্য ও কর্মকর্তাদের অপেশাদার আচরণ পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। অবিলম্বে উচ্চতর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি থেকে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Tags :

সর্বশেষ