চট্টগ্রাম বুলেটিন

খাগড়াছড়িতে আব্দুল্লাহ আল নোমানের গাড়ি বহরে আওয়ামী সন্ত্রাসী হামলার সেই রক্তাক্ত দিন আজ

বিএনপির ১০ দফা দাবি আদায়ের আন্দোলনে অংশ নিতে যাওয়ার পথে বীর চট্টলার অবিসংবাদিত নেতা, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ আল নোমানের গাড়ি বহরে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত ও অতর্কিত হামলার ঘটনাটি আজও গভীর ক্ষোভ ও বেদনার সাথে স্মরণ করছেন দলটির নেতা-কর্মীরা।

সেদিন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত ঐতিহাসিক জনসমাবেশে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন আব্দুল্লাহ আল নোমান। কিন্তু পথিমধ্যে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাঁর গাড়ি বহরে কাপুরুষোচিত হামলা চালায়। সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় আব্দুল্লাহ আল নোমানের গাড়িটি ব্যাপক ভাঙচুর করা হয় এবং এতে তিনি নিজে ও তাঁর সঙ্গে থাকা বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন।

সেদিনের সেই ভয়াল স্মৃতির কথা স্মরণ করে কর্মসূচি ও গাড়ি বহরে থাকা চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুর রহমান মিঠু তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ১০ দফা দাবিতে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি ওই কর্মসূচির আয়োজন করেছিল। আমার প্রিয় নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান ভাইয়ের সাথে সেই প্রোগ্রামে যোগ দিতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু পথে সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং গাড়ি ভাঙচুর করে। সেদিনের সেই নির্মম ও রক্তাক্ত ঘটনার কথা আমরা আজও ভুলিনি।”

নেতাকর্মীদের দাবি, তৎকালীন সময়ে বিএনপির গণজোয়ার ও আন্দোলনকে নস্যাৎ করতেই পরিকল্পিতভাবে জ্যেষ্ঠ ও জনপ্রিয় এই বীর মুক্তিযোদ্ধা নেতার ওপর এই হামলা চালানো হয়েছিল। রাজনীতিতে এই ধরনের কাপুরুষোচিত হামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিচারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন দলটির বর্তমান সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য ২০২৩ সালে ২৬ মে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি ১০ দফা দাবিতে একটি সমাবেশ আয়োজন করে। ওই সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া। পথে পথে আব্দুল্লাহ আল নোমানের গাড়ি বহরে একাধিকবার হামলার কারণে ভাঙা ব্রিজ এলাকার সমাবেশ করে বিএনপি৷ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেছিলেন, আজ যারা গাড়ি বহরে হামলা করেছে তাদের পতন হয়ে গেছে। এ সরকারের সময় শেষ তাই তাদের আস্ফালন বেড়ে গেছে। দশ দফা দাবি এখন এক দফায় পরিণত হয়েছে, খুব শীঘ্রই সরকারের পতন হবে। প্রয়াত বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমানের এই উক্তির ১৪ মাস পরে ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার তথা গোটা আওয়ামী লীগ। ফ্যাসিস্ট দলটির বৃহৎ একটি অংশ প্রতিবেশী দেশ ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। কেউ কেউ দেশেই গা ঢাকা দিয়েছে৷ 

Tags :

সর্বশেষ